প্লাস সাইজ নারীদের স্টাইল নিয়ে দুই বন্ধুর ‘ফ্যাশন টানেল’

দুই বন্ধু মিলে একদিন গল্প করতে গিয়ে হঠাৎ করে দুইজনের মনে হলো, নিজেরাই যেহেতু নিজেদের জামা ডিজাইন করে বানিয়ে পরছেন, তাহলে এই ব্যাপারটাকে নিজেদের কাজ হিসেবে নিলে কেমন হয়! আর বাংলাদেশে ‘প্লাস সাইজ’ এর জামা খুব একটা পাওয়াই যায় না বলতে গেলে। সেই চিন্তাধারা থেকে এবং নিজেদের আগ্রহ, উদ্দীপনা থেকেই ফ্যাশন টানেলের শুরু।

ফ্যাশন টানেল ১

দারুণ ডিজাইনের জামা এবং গহনা বানায় যে ফ্যাশন টানেল তার উদ্যোক্তা একই সাথে দুইজন। তাদের একজন আমান্না হক অর্ঘ্য এবং অন্যজন ফাবিহা ফারজিন আহমেদ। বর্তমানে একজন মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে চাকরী করছেন, আরেকজন পেশায় ডাক্তার। তাদের দুইজনের একসাথে কাজ করার অনুপ্রেরণা একজন অন্যজনের। তাদের মতে, তারা তাদের এই কাজটা যতোটা ভালোবাসা এবং আগ্রহ থেকে করেন, সেটা অন্য কাউকেই বোঝানো সম্ভব না।

ফ্যাশন টানেল ২

ফ্যাশন টানেলের কাজটা একদম প্রথম দিকে শুরু হয় শুধুমাত্র জামা বানানো দিয়েই। টানা দুই বছর বিভিন্ন দারুণ দারুণ ডিজাইনের জামা বানিয়েছেন দুই বন্ধু মিলে তাদের ফ্যাশন টানেলের জন্য। কাজ করতে করতে হটাৎ একদিন তাদের মনে হল, গহনাও তো বানানো যায়! তাদের কারিগররা যে এতো দারুণ এবং সুন্দর কাজ করে সেটা তো সবার সামনে তুলে ধরাই যায়। যেমন ভাবা তেমন কাজ। জামা তৈরির সাথে এবার যোগ হলো তাদের ডিজাইনে তৈরি গহনাও।

ফ্যাশন টানেল ৩

ফ্যাশন টানেলের এই মুহূর্তে সর্বাধিক ক্রেতা পছন্দ জামাগুলো হচ্ছে- চেরি ব্লসম, ফুশিয়া, এবং রোজি নটস। গহনা যদিও একেবারেই নতুন আনা হয়েছে, তবুও হৈমন্তী, বিনোদিনী এবং নীলাম্বরী ইতিমধ্যে অনেক সমাদর পেয়েছে ক্রেতাদের কাছ থেকে। এই ফ্যাশন টানেলের জামা পাওয়া যাবে ২০০০-৭০০০ এর মাঝে এবং গহনা পাওয়া যাবে ৬০০-৩০০০ টাকার মাঝেই।

ফ্যাশন টানেল ৪

ফ্যাশন টানেল এর শুরু থেকেই উভয়ের অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী তাদের পাশেই আছে সকল ধরণের সহযোগিতার জন্যে। কাজ করতে গিয়ে তারা বুঝতে পারছেন বাংলাদেশে নতুন কিছু করার ক্ষেত্রে পরিস্থিতি খুবই প্রতিকূল। ফ্যাশান টানেলের অর্ঘ্য এবং ফাবিহাদের তো আরো অনেক বেশী সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। এমন ছোট ব্যবসা যাদের তাদেরকে প্রতিনিয়ত বড় বড় ব্যবসায়ীদের রোষানলের মাঝে পড়তে হয়।যার অন্যতম কারণ হলো, তারা খুব স্বল্প দামের মাঝেই চমৎকার কোয়ালিটির জামা এবং গহনা দিচ্ছেন ক্রেতাদের। এছাড়াও, মেয়ে হয়ে ব্যবসা শুরু করার কারণে অনেকের চক্ষুশূলের কারণ হয়েছেন তারা। তবে সকল কিছুকে এড়িয়ে গিয়ে নিজেদের কাজ করার স্পৃহা এবং সৎ সাহসকে সাথে নিয়ে তারা ফ্যাশান টানেলকে নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন।

ফ্যাশন টানেল ৫

তাদের কাছে জানতে চেয়েছিলাম, দুইজনের একসাথে কাজ করার ক্ষেত্রে কখনো কোন সমস্যা হয় কিংবা মতের অমিল দেখা দেয়নি? এই প্রশ্নের উত্তরে ফাবিহা জানান, ‘’অবশ্যই হয়েছে ক্রিয়েটিভ ডিফেরেন্স বলে একটা জিনিস তো আছেই তাছাড়া বেষ্টফ্রেন্ড দুজন একসাথে কাজ করতে গেলে কিছু মতবিরোধ তো হয়ই“ তবে মতোবিরোধ অথবা মতের অমিল যতোই থাকুক না কেন, দিনশেষে তারা একে অন্যের ভরসা এবং সাহস হয়েই ফ্যাশান টানেলকে নিয়ে সামনে এগিয়ে চলেছেন।

ফ্যাশন টানেল ৬

তাদের নিজের ভালোলাগা, ভালোবাসা, সাহস, শক্তি এবং স্পৃহা থেকে তৈরি এই ফ্যাশন টানেলকে নিয়ে দুই বেষ্টফ্রেন্ডের স্বপ্ন অনেক বড়। তাদের ইচ্ছা ভবিষ্যৎ এ ফ্যাশন টানেলকে একটি সম্পূর্ণ লাইফস্টাইল হিসেবে দেশের মানুষদের সামনে তুলে ধরার। দেশের মানুষ যেন আবারও দেশীয় পণ্যের প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠে সেটাই তাদের কাম্য।

কমেন্টসমুহ
সিক্রেট ডাইরি সিক্রেট ডাইরি

Top