আপনার বেতন বাড়াতে সাহায্য করবে এই একটি কাজ

বেতন নিয়ে অনেকের মাঝেই থাকে অসন্তোষ। আমরা ভাবি যে আমাদের এত কম বেতনে চলছে না। কিন্তু বেতন বাড়ানোর ব্যাপারেও আমরা কথা বলতে চাই না, কারণ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে এ ধরণের কথোপকথনে অনেক জড়তা এবং ভীতি কাজ করে। তবে এ নিয়ে একটি গবেষণা বলছে এত চিন্তার কিছু নেই। বেতন বাড়ানোর ব্যাপারে কথা বলতে গিয়ে বরং হালকা মেজাজেই কথা বলুন, এতে কাজ হবে।

জার্নাল অফ অ্যাপ্লাইড সাইকোলজিতে প্রকাশিত ২০০৮ সালের একটি গবেষণায়, ইউনিভার্সিটি অফ আইডাহোর প্রফেসর টড থরস্টেইনসন এ ব্যাপারটি খতিয়ে দেখেন। তিনি এমন কিছু পরিস্থিতি সাজান যেখানে স্যালারি নিয়ে সমঝোতা করা হয় এবং দেখা যায়, যারা মজা করে অসম্ভব উঁচু মাপের বেতন দাবি করেন, তাদের ক্ষেত্রেই আলোচনাটি ভালো যায়। তারা বলে, “এক লাখ ডলারের বেতন হলে ভালোই হতো, কিন্তু ন্যায্য বেতন পেলেই আসলে আমি খুশি।” দেখা যায়, অন্যদের চাইতে তাদের স্টার্টিং স্যালারি বেশী দেওয়ার কথা বলা হয়।

এই পদ্ধতি কেন কাজ করে? গবেষণায় বলা হয়, ‘অ্যাঙ্করিং’ নামের একটি ব্যাপার এক্ষেত্রে কাজ করে। অ্যাঙ্করিং হলো একটি কগনিটিভ বায়াস, এটা দেখা যায় তখনই যখন আমরা একটিমাত্র তথ্যের ওপর নির্ভর করে সিদ্ধান্ত নেবার চেষ্টা করি। অনেক গবেষণায় (যেমন কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটির ২০১৫ সালের গবেষণাটি) দেখা যায় বিভিন্ন বিষয়ে সমঝোতায় ‘অ্যাঙ্করিং’ বেশ বড় ভূমিকা পালন করে। এমনকি, এই কারণে আমেরিকার অনেক রাজ্যে চাকরিপ্রার্থীদেরকে তারা কত বেতন আশা করছে এই প্রশ্ন জিজ্ঞেস করাটাই অবৈধ। কারণ সে যদি কম বেতন আশা করছে বলে জানায়, তবে এক্ষেত্রে অ্যাঙ্করিং তার বিপক্ষে কাজ করে।

অনেক বেশী অংকের বেতন আশা করাটাও একইভাবে কাজ করে। আপনি যদি মজা করেও বলেন যে আপনি লাখখানেক টাকা বেতন চান, এটাও আসলে একটা অ্যাঙ্কর। এতে হয়তো আপনাকে ঠিক এক লাখ টাকা বেতন দেওয়া হবে না, কিন্তু আপনার যা পাওয়ার কথা, তার চাইতে বেতনের অঙ্কটা বেশিই হবে।

কমেন্টসমুহ
সিক্রেট ডাইরি সিক্রেট ডাইরি

Top