রাগ কাবু করুন ৭টি উপায়ে

রাগ মানুষের চারিত্রিক বৈশিষ্টগুলোর একটি। তবে সব সময়ই তা রাখতে হবে আপনার নিয়ন্ত্রণে। একটু নিয়ন্ত্রণহীন হলেই আপনার দ্বারা সংগঠিত হতে পারে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা।

মাঝে মাঝে রাগকে সামলাতে না পেরে রাগের কাছেই আত্মসমর্পণ করতে হয়েছে আপনার। কিন্তু প্রতিনিয়তই এমন পরিস্থিতির কারণে সবার সাথে সম্পর্ক খারাপ হয়ে যাচ্ছে ধীরে ধীরে। কীভাবে কমাবেন রাগ তাও বুঝতে পারছেন না।

যদিও রাগ মানুষের স্বাভাবিক একটি অনুভূতি। একেবারে রাগ নেই এমন মানুষ মনে হয় পাওয়াই যাবে না। কিন্তু অতিরিক্ত রাগের কারণে নিজের কিংবা অন্যের ক্ষতি করার মত পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে সেটা নিয়ন্ত্রণ করা জরুরী। আসুন জেনে নেওয়া যাক রাগ নিয়ন্ত্রণ করার ৭টি সহজ উপায়।

নিজেকে একটু সময় দিন:

রাগ ওঠা অবস্থায় যে কাজেই থাকুন না কেনো কাজ থেকে নিজেকে একটু বিরতি দিন। হতে পারে রাগান্বিত মানসিকতায় আপনার কাজটি নষ্ট, কিংবা এই কাজটি আপনাকে আরও বেশি রাগিয়ে তুলতে পারে। তাই একটু সময় নিন।

যদি পারিবারিক কোন কারণে আপনার রাগ নিয়ন্ত্রণহীন হয় তবে  নিজেকে একটু আলাদা করুন, কেননা আপনার উত্তেজিত মনোভাব তাদের আঘাত করতে পারে। হতে পারে আপনার নিজের রুমে কিংবা বাইরে হাঁটতে বেড়িয়ে যান, হতে পারে সাময়িক মানসিক ছুটি আপনাকে শান্ত করতে পারে।

দীর্ঘ নিঃশ্বাস নিন:

আপনি অফিসে বসের সামনে তার কথায় রেগে জেতে পারেন, ক্লাসে শিক্ষকের ধমকে রেগে যেতে পারেন, কিংবা বাবার শাসনে কিছুটা হলেই মেজাজ খারাপ হতে পারে। এমন সময় চাইলেও তাদের সামনে থেকে চলে আসতে পারবেন না। তাই উত্তেজিত না হয়ে দীর্ঘ নিশ্বাস নিন বারবার। মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক হলেই আপনার রাগ নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।

প্রিয় জায়গাতে ঘুরে আসুন:

রাগটা যদি আপনাকে কাবু করেই ফেলে। তবে কোন অঘটন ঘটার আগেই একটু বেড়িয়ে আসুন। সবচেয়ে ভাল হয় যদি জায়গাটা আপনার পছন্দের হয়। হয়ত সেখানে আপনার ছোটবেলার স্মৃতি থাকতে পারে, কিংবা সেখানকার আবহাওয়া, প্রকৃতি আপনাকে ভুলিয়ে দিতে পারে স্থায়ী রাগ থেকে।

প্রিয় ঘটনাটি স্মৃতিচারণ করুন:

হতে পারে আপনার রাগটা আপনার বাবা, মা, বড় ভাই, কিংবা প্রিয় বন্ধুটির সাথে।
নিজেকে ভুল করার সুযোগ দিবেন না। তাদের সাথে কাটানো ভাল মুহূর্তগুলো ভাবুন। তাদের ইতিবাচক কথা গুলো নিজেকে মনে করিয়ে দিন। হতে পারে আপনার রাগের উপশম হিসেবে ওই স্মৃতি আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

কথা বন্ধ রাখুন:

যার কারণে আপনি রেগে গিয়েছেন তার সাথে কথা বা তর্কে না জড়িয়ে কথা বন্ধ করে রাখুন কিছুক্ষণ। তাহলে কিছুক্ষণ পরে এমনিতেই রাগ কমে যাবে। ফলে চিৎকার চেঁচামেচির মত পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে না। তাই রাগ করলে কারো সাথে কথা না বলে চুপচাপ নিজের রুমে বসে থাকুন। কিছুক্ষণ পরে রাগ কমে গেলে আপনার রাগ করার কারণ বুঝিয়ে বলতে পারেন।

ব্যয়াম করুন:

যাদের Intermittent explosive disorder (ইন্টারমিটেন্ড এক্সপ্লসিভ ডিসর্ডার) আছে তারা প্রায়ই সহজে রেগে যান। একবার রেগে গেলে তারা সহজে নিজেদের উপর নিয়ন্ত্রণ আনতে পারেন না। তাদের অবশ্যই কিছু মানসিক ও শারীরিক ব্যায়াম করা উচিত। যেমন- যোগ ব্যায়ম, সাঁতার, দৌড়, বডি বিল্ডিং কিংবা সঙ্গীতের বাদ্যযন্ত্র বাজানোর মাধ্যমে তারা তাদের এই অনিয়ন্ত্রিত রাগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন।

নিজেকে যুক্তি দিয়ে বোঝান:

যদি রেগে যাওয়ার স্বভাবটি নিয়মিত হয়ে থাকে। তবে নিজের মনের সাহায্য নিন। নিজেকে বোঝান কেন রেগে যাচ্ছেন? কি করলে রাগবেন না? কীভাবে এড়িয়ে যেতে পারবেন, ভাবুন। নিজের পাওয়া উত্তরগুলোকে প্রাধান্য দিন। কিছুটা হলেও পরিত্রান পাবেন এই অস্বাভাবিক সমস্যা থেকে।

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Most searched keywords: Insurance, Loans, Mortgage, Attorney, Credit, Lawyer, Donate, Degree, Hosting, Claim, Conference Call, Trading, Software, Recovery, Transfer, Gas/Electricity, Classes, Rehab, Treatment, Cord Blood, domain, music, mobile, phone, buy, sell, classifieds,recipes
Top