পুরান ঢাকায় ঐতিহ্যবাহী ইফতারির পসরা : ক্রেতাদের প্রচন্ড ভিড়

পবিত্র রমজানে রাজধানীর পুরান ঢাকায় জমে উঠেছে ঐতিহ্যবাহী ইফতার বাজার। আর বেইলী রোডে পাওয়া যায় বাহারি অভিজাত ইফতার। তবে ঢাকার গুলশান বনানী উত্তরাসহ অধিকাংশ রেস্টুরেন্ট, খাবারের দোকান, ফুটপাত ও সড়কের অলিতে-গলিতে জমে উঠেছে হরেক রকমের ইফতার। শুক্রবার (১৯ জুন) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে প্রথম রমজান উপলক্ষে ইফতারের এমন আয়োজন লক্ষ্য করা গেছে। রোজা উপলক্ষে মূলত দুপুরের পর থেকে বিক্রেতারা ইফতার সামগ্রীর পসরা নিয়ে বসতে থাকেন। তবে সকাল থেকে ইফতারের বিভিন্ন আইটেম তৈরি শুরু হয়। তবে এবারো পুরান ঢাকার ইফতারের মূল আকর্ষণ ছিল বড় বাপের পোলায় খায় ইফতার আইটেম। : পুরান ঢাকার ইফতারির স্বাদ রাজধানীবাসীর অনেকেই ভুলতে পারেন না। বাহারি সব পদের কথা মনে এলেই জিভে জল এসে যায়। কিন্তু ভয়াবহ যানজট, সাধ আর সাধ্যের মধ্যে হিমালয় পর্বতের মতো দাঁড়িয়ে রয়েছে। তাদের জন্য পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী সব ইফতারি এখন পাওয়া যাচ্ছে রাজধানীর বসুন্ধরা কনভেনশন সিটিতে। ‘বড় বাপের পোলায় খায়, ঠোঙ্গা ভইরা লইয়া যায়।’ রমজানে দুপুর গড়াতে না গড়াতেই রাজধানীর পুরান ঢাকার চকবাজারে গেলে এ রকম ডাক শোনা যায়। : ‘বড় বাপের পোলায় খায়’ চকবাজারের ঐতিহ্যবাহী ইফতার আয়োজনের অন্যতম এক অনুষঙ্গ। সেই সঙ্গে চকবাজারের ইফতারের নানা পদ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এনে দিয়েছে কমবেশি পরিচিতি। বড় বাপের পোলায় খায় এর তৈরির ব্যবস্থা চমকপ্রদ। ডিম, আলু, ঘি, গরুর মগজ, কাঁচা ও শুকনা মরিচ, গরুর কলিজা, মুরগির মাংসের কুচি, গিলা-কলিজা, সুতি কাবাব, মাংসের কিমা, চিড়া, ডাবলি, বুটের ডাল ও মিষ্টি কুমড়াসহ মোট ৩১ পদ খাবার ও মসলা বড় গামলায় নিয়ে ভালোভাবে মাখানো হয়। এরপর তা ঠোঙায় করে বিক্রি করা হয়। রমজান মাসের প্রথম দিনেই ‘বড় বাপের পোলায় খায়’ কিনতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে ক্রেতারা ছুটে যান চকবাজারে। এবারো তার ব্যতিক্রম হয়নি। শুক্রবার (১৯ জুন) প্রথম রোজা উপলক্ষে দুপুর সাড়ে ১২টা থেকেই রাস্তার উপরে ইফতার সাজিয়ে বিক্রির প্রস্তুতি নিতে থাকেন বিক্রেতারা। তবে চকবাজার ঘুরে গত বছরের তুলনায় এ বছর বড় বাপের পোলায় খায়’র সংখ্যা দেখা গেছে কম। গত রমজানে অন্তত ২০ থেকে ২৫ জন বিক্রেতাকে বড় বাপের পোলায় খায় বিক্রি করতে দেখা গেলেও এবার মাত্র ১০ থেকে ১২ জনকে তা বিক্রি করতে দেখা গেছে। এবার রোজার শুরুতেই বাজার ঘুরে বড় বাপের পোলায় খায়’র দামের পার্থক্যও দেখা গেছে। চকবাজার শাহী মসজিদ সংলগ্ন দোকানগুলোতে এর দাম রাখা হচ্ছে সাড়ে ৪শ’ থেকে ৫শ’ টাকা। আর মসজিদ থেকে একটু দূরের দোকানগুলোতে নেয়া হচ্ছে ৪শ’ থেকে সাড়ে ৪শ’ টাকা। : এবার রাজধানীর বসুন্ধরা কনভেনশন সিটিতে করা হয়েছে ইফতার বাজার। বাসায় নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি একসঙ্গে ৩শ’ বসে খাওয়ার সুবিধাও রয়েছে। রয়েছে দেড়শ’ জনের একসঙ্গে নামাজ পড়ার ব্যবস্থা। কেনাকাটা থেকে বসে খাওয়া, মসজিদ সবই কেন্দ্রীয়ভাবে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের ভিতর। নিরাপত্তা ব্যবস্থাও আলাদা করে বলার মতো। সার্বক্ষণিক সিসি ক্যামেরায় মনিটরিংয়ের পাশাপাশি রয়েছে দুটি গেটওয়ে। যেখানে রয়েছে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা প্রহরা। প্রথম দিনে পাওয়া যাচ্ছে মোরগ পোলাও ১৬০ টাকা (হাফ প্লেট ১৩০ টাকা), কাচ্চি বিরিয়ানি ২০০ টাকা (হাফ ১০০ টাকা) তেহারি ২০০ টাকা (হাফ ১৫০ টাকা) ফিরনি ৪০০ টাকা, বোরহানি ১০০ টাকা। : প্রথম দিনেই জমে উঠেছে ‘পুরান ঢাকার ইফতার বাজার’ নামে এ ব্যতিক্রমী আয়োজন। স্বচ্ছন্দে ইফতারি নিয়ে ফিরে যাচ্ছেন বাসায়। অনেকটা বিনোদনের মতো। ক্রেতারাও সন্তুষ্ট চমৎকার পরিবেশে কেনাকাটা করতে পেরে। সুমন মেহেদী নামে এক ব্যাংক কর্মকর্তা বললেন, ছোট ছেলেকে সঙ্গে করে এসেছি। অন্য বাজার হলে তাকে সঙ্গে নেয়ার কথা ভাবতেই পারতাম না। এখানে একসঙ্গে ইফতার কেনা ও ছেলেকে নিয়ে ঘুরে বেড়ানো দুটোই সেরে নিলাম। আর পুরান ঢাকায় ইফতার কিনতে যাওয়ার কথা তো কল্পনাও করতে পারি না। পুরান ঢাকায় মামার বাসা রয়েছে, যানজটের কারণে সেখানে যাওয়া হয়ে ওঠে না বলেও জানালেন সুমন মেহেদী। : পুরান ঢাকাকে কাছে আনার এ প্রয়াসে যুক্ত হয়েছে অনেক নামি-দামি ব্র্যান্ডও। ৪৮ আইটেমের পসরা সাজিয়েছে রঙধনু রসুই। রয়েছে নানুস ফুড ফ্যাক্টরি, মাস্টারশেফ সুবরাত আলী, ইব্রাহিম ক্যাটারিং সার্ভিস। আরও থাকছে ইন্ডিয়ান কিচেন, মুনসুন ক্যাটারিং সার্ভিসসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। অনলাইনভিত্তিক খাবার সরবরাহকারী নানুস ফুড ফ্যাক্টরি মজাদার সব খাবার আইটেম নিয়ে হাজির হয়েছে বসুন্ধরার এ আয়োজনে। পাওয়া যাচ্ছে সুজির হালুয়া, পাটিসাপটা, কাঠি কাবাব, চিকেন শাসলিক, সবজি রোল, আলু চপ, বেগুনি, পেঁয়াজু, ছোলা, বিফ ভুনা, ভুনা খিচুড়ি। : প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এ আয়োজন থাকছে রমজানজুড়ে। এখানে পুরান ঢাকার চকবাজার থেকে আসা বাবুর্চিদের দিয়ে স্বাস্থ্যসম্মতভাবে তৈরি ইফতার পাওয়া যাবে। রয়েছে পার্সেলের সু-ব্যবস্থাও। রাজধানীর বায়তুল মোকাররম, কাকরাইল, শান্তিনগর, মালিবাগ, মৌচাক, মগবাজার, রামপুরা, কারওয়ান বাজার, মহাখালী ঘুরে দেখা যায়, অভিজাত হোটেল ও রেস্তোরাঁর পাশাপাশি ছোট-বড় রেস্টুরেন্ট, মিষ্টির দোকান, খাবারের দোকানের সামনে বিভিন্ন ধরনের ইফতার সামগ্রী নিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা। এসব দোকানপাট ও ফুটপাতে দেখা যায় পিঁয়াজু, ছোলা, বেগুনি, দইবড়া, মাংসের ভুনা, গরু ও মুরগির রোস্ট, ভেজিটেবল রোল, আলু ও সবজির চপ, হালিম, পরোটা, শাহী জিলাপি, কিমা, ফিরনি, খেজুর, বাদাম, কয়েক ধরনের শরবতসহ বিভিন্ন ধরনের ইফতার সামগ্রী বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন সড়কের মোড় ও ফুটপাতের ওপর ভাসমান হকারদেরকে ইফতার বিক্রি করতে দেখা যায়। হোটেল ও রেস্টুরেন্টের সামনে যে সব ইফতার বিক্রি হতে দেখা যায় তার অনেক দোকানে ধূলাবালি ও মাছি থেকে রক্ষা পেতে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা আছে। : এসব দোকানের বিক্রেতাদের দাবি, রোজাদারদের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত ইফতার তৈরি ও বিক্রির ব্যবস্থা করেছেন তারা। মাসব্যাপী ভালো মানের ইফতার বিক্রি করতে চান তারা। মৌচাকের একটি রেস্টুরেন্টের সামনে ইফতার বিক্রি করছেন শাহিন আনোয়ার। তিনি বলেন, রমজানে তাদের রেস্টুরেন্টে নিয়মিত খাবার বিক্রি বন্ধ থাকে। রোজার পুরো মাস ধরে তারা শুধু ইফতারই বিক্রি করে থাকেন। মালিবাগ রেলগেট এলাকায় খোলা আকাশের নিচে ইফতার বিক্রি করছেন আইয়ুব আলী। তিনি বলেন, বড় বড় দোকানে বেশি দামে ইফতার বিক্রি হয়ে থাকে। কিন্তু সবার কথা চিন্তা করে সহজ মূল্যে ইফতার বিক্রি করছেন তিনি। প্রতি বছর এখানে ইফতার বিক্রি করেন। তার ইফতার সবাই পছন্দ করেন বলে জানান তিনি। রামপুরা এলাকায় একটি দোকানে ইফতার কিনতে এসেছেন স্থানীয় বাসিন্দা আবুল কালাম। তিনি জানান, বাসায় বিভিন্ন ইফতার সামগ্রী তৈরি করা হচ্ছে। এরপরও বাজার থেকে হালিম, মুরগির রোস্ট, পরোটা, শাহী জিলাপী কিনেছেন বলে জানান তিনি। : : – See more at: http://www.dailydinkal.net/2015/06/20/17209.php#sthash.kNPPkF0o.dpuf

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Most searched keywords: Insurance, Loans, Mortgage, Attorney, Credit, Lawyer, Donate, Degree, Hosting, Claim, Conference Call, Trading, Software, Recovery, Transfer, Gas/Electricity, Classes, Rehab, Treatment, Cord Blood, domain, music, mobile, phone, buy, sell, classifieds,recipes
Top