কামাল ঠুঁকছেন শেষ পেরেক!

মোস্তফা কামাল আইসিসি সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করার পর বিখ্যাত ক্রিকেট বিষয়ক ওয়েবসাইট ‘ক্রিকইনফো’ কমেন্ট্রি ছেপেছিলো: কামালের আত্মঘাতি গোল।

শুধু ক্রিকইনফো নয়; দেশে বিদেশে এই ধারণাটাই প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো যে, কামাল একটা বিরাট বোকামী করেছেন। তার এই পদত্যাগে শ্রীনিবাসনের কিছু যায় আসে না।

এই সেদিনও এক শ্রদ্ধেয় সতীর্থর সঙ্গে লম্বা সময় ধরে তর্ক হলো। তিনি খুব জোর দিয়ে বললেন, ‘আগে-পরে যাই হোক, শ্রীনিবাসন-ডালমিয়া অন্তত কামালের ব্যাপারে কখনো মুখোমুখি হবে না। ডালমিয়া কখনোই লোটাস কামালের পাশে দাড়াবে না।’

জ্বি, জনাব।

জগমোহন ডালমিয়া লোটাস কামালের পাশে দাড়ায় নাই; বসেছে!

আ হ ম মোস্তফা কামাল এখন ইডেন গার্ডেনে। আইপিএল ফাইনাল দেখছেন কোনো একটা ভিআইপি বক্সে বসে। সেখানে কার আমন্ত্রণে গেছেন তিনি?

হ্যা, বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআই সভাপতি জগমোহন ডালমিয়ার আমন্ত্রণে। শ্রীনিবাসন যে বোর্ডের প্রতিনিধি হিসেবে আইসিসিতে আছেন, সেই বোর্ডের সভাপতির আমন্ত্রণে।

কামাল শুধু বেড়াতে যাননি কলকাতায়।

আজ আইসিসির সবচেয়ে ক্ষমতাবান দেশগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক অপ্রাতিষ্ঠানিক এক ঝাক নেতা হাজির হচ্ছেন কলকাতায়। সেখানে ডালমিয়া এক প্রকাশ্য, কিন্তু অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করবেন এই নেতাদের নিয়ে। কামাল তো এই বৈঠকে থাকার কথাই না; কারণ তিনি ক্রিকেটের কোথাও কোনো পদে নেই।

তারপরও কামাল এই বৈঠকে আছেন।

আরেকজন আছেন। হারুন লরগাত।

ক্রিকেট রাজনীতি যদি বিন্দুমাত্র অনুসরণ করেন, তাহলে বুঝতে পারবেন ডালমিয়া কী খেলায় মেতেছেন। বর্তমান আইসিসির সবচেয়ে বড় শত্রু, ডালমিয়ার বন্ধু এহসান মানির একসময়ের প্রধাণমত মিত্র এবং দক্ষিণ আফ্রিকান বোর্ডের ‘নিষিদ্ধ’ সিইও লরগাত!

কামাল আর লরগাতকে আমন্ত্রন জানিয়ে কী বোঝাতে চাইলেন ডালমিয়া?

সোজা কথা, ‘তোমাকে যে ভারতে বসে গালিগালাজ করতে পারে, যে তোমার সবচেয়ে বড় শত্রু; সে আমার সবচেয়ে ভালো বন্ধু।’
ডালমিয়ার এই কামালকে আমন্ত্রণ জানানোকে পরিষ্কার বলা যায়, শ্রীনিবাসনের বিপক্ষে তার চলমান যুদ্ধে প্রতিপক্ষের প্রতি চরম তাচ্ছিল্য প্রকাশ করে নিজেকে বিজয়ী বলে ঘোষণা করে দেওয়া। এই ঘটনার মাধ্যমে ডালমিয়া একটা পরিষ্কার বার্তা দিয়ে দিলেন যে, সেপ্টেম্বরের আইসিসি সভায় শ্রীনিবাসনের ওপর থেকে তারা সমর্থণ তো তুলে নেবেন বটেই; এরপরও শ্রীনিবাসনের কপালে দুঃখ আছে।

এমন একটা নাটকই যে হতে যাচ্ছে, সেটা মোস্তফা কামাল পদত্যাগ করা মাত্র লিখেছিলাম।

এই অধম টানা গোটা তিনেক লেখা লিখে এই প্রিয় ডক কমে পরিষ্কার অনুমান করেছিলো যে, মোস্তফা কামালের এই পদত্যাগ করার মতো বিক্রম তৈরী হওয়ার প্রধাণ কারণ নেপথ্যে ডালমিয়ার বিগড়ে যাওয়া এবং শ্রীনিবাসনের সঙ্গে তার সম্ভাব্য প্রকাশ্য যুদ্ধ।

[আগ্রহীরা এই পর্যায়ে লেখা তিনটে পড়ে নিতে পারেন: ১. কামালের পদত্যাগঃ নাটকের শেষ নয়, শুরু ২. শ্রীনিবাসনঃ তিনিই উকিল, তিনিই বিচারক ও ৩. এসিসি নয়; আইসিসির ভয় চীনে ]

সেই সব লেখার কিছুদিনের মধ্যে যুদ্ধটা একদম সামনে চলে আসে।
মূলত ভারতীয় বোর্ডের সবগুলো ওয়ার্কিং কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে শ্রীনিবাসনের পছন্দের লোকেদের বের করে দিয়ে ডালমিয়া যুদ্ধ ঘোষণা করেন। ডালমিয়া নিজেও তখনও নিশ্চিত ছিলেন না এই যুদ্ধে তিনি শ্রীনিবাসনের মতো পর্বতকে হেলতে বাধ্য করতে পারবেন কি না। এর ওপর আবার গুঞ্জন ছিলো যে, ডালমিয়াকে ঠেকাতে শ্রীনিবাসন হাত মিলিয়েছেন চিরশত্রু শারদ পাওয়ারের সঙ্গে।

ডালমিয়া এ ক্ষেত্রে দু জনকে পাশে পেলেন। পুরোনো ওস্তাদ এ সি মুত্থিয়া ও তরুণ বিসিসিআই সচিব, বিজেপি নেতা অনুরাগ ঠাকুরকে।

মূলত ঠাকুরই আসর গরম করে দিলেন।

আসলে শ্রীনিবাসনই অতি দর্পে জ্ঞানশূন্য হয়ে অনুরাগ ঠাকুরকে বেপরোয়া হওয়ার সুযোগ করে দিলেন। ঠাকুরকে আক্রমণ করে একটা চিঠি লিখেছিলেন শ্রীনিবাসন। অতি সম্প্রতি লেখা এই চিঠিকে আমার মনে হয়েছে শ্রীনিবাসনের নিজের তৈরী করা নিজের আত্মঘাতি অস্ত্র।

সে চিঠিতে ঠাকুরকে শ্রীনিবাসন বললেন, এক বাজিকর থেকে দূরে থাকতে; সে কথিত বাজিকর ঠাকুরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। চিঠি লিখলেও সমস্যা ছিলো না। সে চিঠি আবার মিডিয়াতেও কে বা কারা দিয়ে দিলো। আর এতেই পাল্টা চিঠি দিয়ে শ্রীনিবাসনকে একেবারে যাকে বলে ‘ধুয়ে দিলেন’ ঠাকুর। এবং মিডিয়ার খবর শাসক দলের এই নেতা তার সর্বোচ্চ যোগাযোগ ও ক্ষমতা প্রয়োগ করতে শুরু করলেন যুদ্ধে।

ফলাফল দেখতেই পাচ্ছেন। ফলাফল হলো, সেই শ্রীনিবাসনের সবচেয়ে বড় শত্রু মোস্তফা কামাল আজ ভারতীয় বোর্ডের বিশেষ অতিথি!

মনে হতে পারে, এ সবই ভারতীয় বোর্ডের নিজেদের দ্বন্দ; এখানে কামালের ভূমিকাটা কী? তিনি তো পরিস্থিতির কারণে আজ ভারতের প্রিয় পাত্র হয়েছেন।

জ্বি না জনাব। আবার পেছনে ফিরে দেখতে থাকুন। একটু একটার পর একটা ঘটনা দেখতে থাকুন। দেখতে পাবেন, কামাল গুটি নন; খেলোয়াড়। কামাল খেলছেন।

কামাল পাশ্বচরিত্র নন; নায়ক।

কেন, বুঝতে পারছেন না। আচ্ছা, সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। একটা সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুমান করছি। সেই সংবাদ বিজ্ঞপ্তিটা পেলে বুঝতে পারবেন, মোস্তফা কামাল নায়ক; বাকীরা খেলার পাত্র।

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Most searched keywords: Insurance, Loans, Mortgage, Attorney, Credit, Lawyer, Donate, Degree, Hosting, Claim, Conference Call, Trading, Software, Recovery, Transfer, Gas/Electricity, Classes, Rehab, Treatment, Cord Blood, domain, music, mobile, phone, buy, sell, classifieds,recipes
Top