১৪ জুন পর্যন্ত বাসের টিকিট নেই, মহাবিপাকে যাত্রীরা

ঈদের ছুটিতে পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে এসে ও ভারত যাওয়া বাংলাদেশিরা দেশে ফিরে পড়েছেন মহাবিপাকে। সীমানা পেরিয়ে দেশে ঢুকে নিজের গন্তব্যে যেতে মিলছে না বাসের টিকিট।

বিগত দিনের চেয়ে যাত্রীদের বিলাসিতার সঙ্গে বেড়েছে সক্ষমতা। এতে দ্বিগুণ চাহিদা বেড়েছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) বাসের। যে কারণে ঈদে গ্রামে আসা মানুষ কর্মস্থলে ফিরে যেতে বাসের টিকিট পাচ্ছেন না।

বেনাপোল চেকপোস্ট, বাজার, নাভারণ ও বাগআঁচড়ার বিভিন্ন বাস কাউন্টার ঘুরে কিছু যাত্রী চেয়ার কোচের টিকিট সংগ্রহ করে কর্মস্থল ঢাকা ও চট্টগ্রামে ফিরলেও অধিকাংশ যাত্রী টিকিট পাননি।

বেশি সমস্যায় পড়েছেন ভারত ফেরত যাত্রীরা। পরিবার-পরিজন নিয়ে ঈদের ছুটি ও স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষা করতে দেশে এসে গন্তব্যে ফিরতে কোনো বাসের টিকিট পাচ্ছেন না তারা।

এতে তারা মারাত্মক ভোগান্তিতে পড়েছেন। সেই সঙ্গে টিকিটের দাম বাড়িয়েছেন বাস মালিকরা। ১ হাজার ৩০০ টাকার এসি বাসে নেয়া হচ্ছে ১ হাজার ৪৫০ টাকা এবং ৫০০ টাকার নন-এসিতে নেয়া হচ্ছে ৬০০ টাকা।

শুক্রবার (৭ জুন) সকাল থেকে বেনাপোল থেকে দেশের অভ্যন্তরে দূরপাল্লার গন্তব্যের যাত্রীদের দুর্ভোগ ছিল চোখে পড়ার মতো। সোমবার তা বেড়ে যায়।

ঢাকার দক্ষিণখানের সাইফুল ইসলাম ঈদের লম্বা ছুটি পেয়ে পরিবার নিয়ে ভারতে গিয়েছিলেন চিকিৎসার জন্য। তিনি জানান, রোববার সকালে ভারত থেকে ফিরছিলেন। কিন্তু বেনাপোল থেকে ঢাকা যাওয়ার জন্য বাসের টিকিট না পাওয়ায় ওই দিন হোটেলে থেকে যান। সোমবার সকাল থেকে চেষ্টা করে রাতে বাসের টিকিট অনেক কষ্টে পেয়েছেন।

ভারত ফেরত যাত্রী গাজীপুরের সৈয়দ বদরুল ইসলাম বলেন, চিকিৎসা শেষ হতে এমনিতেই দেরি হয়ে গেছে। ছুটি শেষে অফিস খুলেছে। এখন জরুরিভাবে গন্তব্যে ফেরা প্রয়োজন। বাসে তো টিকিট পাওয়া যাচ্ছে না। যশোর থেকে কোনো বিমানের টিকিট নেই। যেভাবে হোক গন্তব্যে ফিরতে হবে।

বেনাপোলের বাহাদুনপুর গ্রামের শামছুল আলম বলেন, পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে এসে আর কর্মস্থলে ফিরতে পারছি না। কোনো টিকিট নেই বাসের। পড়েছি বিপদে।

বেনাপোল স্থলবন্দরের এয়ার টিকিট এজেন্ট টাইম ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরের প্রতিনিধি হাসান বলেন, সড়কপথে বেহাল অবস্থার কারণে দিন দিন আকাশপথে যাত্রীর চাপ বাড়ছে। চাপ বাড়ায় এবার ঈদে বিমানের ফ্লাইট সংখ্যা বেড়েছে। তারপরও টিকিট সংকট। ঈদের পরদিন থেকে অধিকাংশ বিমানের টিকিট নেই। তবে আগামী সপ্তাহ থেকে টিকিট স্বাভাবিক থাকবে।

বেনাপোল চেকপোস্টের রাজা বাদশা মানি চেঞ্জারের মালিক আবুল বাশার বলেন, চিকিৎসা ও ভ্রমণের কাজে এ পথে দিন দিন যাত্রী যাতায়াত বাড়লেও চাহিদা অনুযায়ী দূরপাল্লার বাসের সংখ্যা বাড়েনি। প্রতি বছর ঈদ, পূজাসহ বিশেষ উৎসবের সময় এই রুটে বাসের টিকিট না পেয়ে যন্ত্রণা ভোগ করতে দেখা যায় পাসপোর্টধারী যাত্রীদের।

বেনাপোল শ্যামলী পরিবহনের ম্যানেজার গিয়াস উদ্দিন বলেন, ঈদের ছুটিতে যারা ভারতে গেছেন তাদের অনেকে ফিরতি টিকিট কেটে গেছেন। কলকাতা থেকে অধিকংশ সিট বুকিং হয়ে গেছে। এখন যারা আসছেন কোনো সিট দিতে পারছি না। তবে সামনের সপ্তাহ থেকে এই সংকট নিরসন হবে।

বেনাপোলে সবচেয়ে বেশি বাস চলাচলকারী সোহাগ পরিবহনের ম্যানেজার শহিদুল ইসলাম বলেন, ঈদের ছুটিতে যারা কর্মস্থল ঢাকা থেকে বেনাপোল ও শার্শায় এসেছেন তারা ছুটি শেষে আবারও কর্মস্থলে ফিরছেন। আমরা টিকিট অনলাইনে বিক্রি করি বিধায় সব কাউন্টার অগ্রিম টিকিট বিক্রি করেছে। আগামী ১৪ জুন পর্যন্ত কোনো টিকিট নেই। এসি বাসের টিকিট ভারত থেকে বিক্রি হওয়ায় আমরা স্থানীয়দের টিকিট দিতে পারছি না। কর্মস্থলে ফিরতি যাত্রীদের নিয়ে আমাদের কোম্পানির প্রায় ১৫টি এসি, নন-এসি বাস প্রতিদিন ঢাকার উদ্দেশ্যে বেনাপোল ত্যাগ করছে। ভাড়া রাখা হচ্ছে এসি ১ হাজার ৪৫০ টাকা ও নন-এসি ৬০০ টাকা। তবে অনেকে এসি বাসের টিকিট না পেয়ে চেয়ার কোচে টিকিট সংগ্রহ করেছেন।

তিনি বলেন, আগে চেয়ার কোচের চাহিদা ছিল বেশি। কিন্তু এখন এসি বাসের চাহিদা আগের তুলনায় বেড়েছে দ্বিগুণ। সবাই একটু আরামে যাতায়াত করতে চান। তারা খরচের দিকে না তাকিয়ে আরামে যেতে চান।

সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজনের শার্শা উপজেলা কমিটির সভাপতি সাজেদুর রহমান বলেন, একশ্রেণির মানুষ হঠাৎ অর্থ সম্পদের মালিক বনে গেছেন। তাদের বিলাসিতা সব ক্ষেত্রে বেড়েছে। আরামে যাতায়াতের জন্য তারা ঝামেলা এড়িয়ে এসি বাসে যেতে আগ্রহ দেখান। এদের কারণেই এসি বাসের টিকিটের চাহিদা বেড়েছে। তাছাড়া বিগত দিনের চেয়ে বেনাপোল শার্শার মানুষের সংখ্যা বেড়েছে। ঢাকামুখী কর্মসংস্থান ও ব্যবসা-বাণিজ্য বেড়েছে। সঙ্গে মানুষের আয়ও বেড়েছে। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে বেনাপোলে এসি বাসের সংখ্যা আরও বাড়াতে হবে।

কমেন্টসমুহ
সিক্রেট ডাইরি সিক্রেট ডাইরি

Top