খুশির ঈদে পথে ঝরলো ১৪২ প্রাণ, আহত ৩২৪

প্রতি বছর ঈদ এলে সড়কে মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ হয়। আর প্রতিবারই সরকারের সংশ্লিষ্টরা জনগণকে আশ্বস্ত করেন এই বলে যে, এবার ঈদযাত্রা হবে স্বস্তিদায়ক। এবার রাস্তায় জ্যাম থাকবে না। এবার প্রাণহানির সম্ভাবনাও কম ইত্যাদি ইত্যাদি বলে। কিন্তু বাস্তব চিত্রটা আর পাল্টায় না। খুশির ঈদে বাড়ি যাওয়ার পথে অথবা ফিরতি যাত্রায় পথেই ঝরে পড়ে শত শত প্রাণ। এবারও তার ব্যত্যয় ঘটেনি।

এ বছর ঈদুল ফিতরের ছুটিতে সারা দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় ১৪২ জন নিহত ও ৩২৪ জন আহত হয়েছেন। গত ৩০ মে থেকে ৯ জুন পর্যন্ত ১১ দিনে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন সড়ক, মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কে সংঘটিত ৯৫টি দুর্ঘটনায় এসব হতাহতের ঘটনা ঘটে।

নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটির ঈদ-যাতায়াত পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

বেসরকারি এই সংগঠনটির এ সংক্রান্ত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিভিন্ন পত্রিকার অনলাইন সংস্করণ, অনলাইন নিউজপোর্টাল, সংবাদ সংস্থা ও টেলিভিশন চ্যানেলের তথ্য-উপাত্তের ওপর ভিত্তি করে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ঈদের আগে ৩০ মে সারা দেশে ৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৯ জন নিহত হয় ও ৮ জন আহত হয়। ৩১ মে ৬টি দুর্ঘটনায় নিহত ও আহত হন যথাক্রমে ৬ জন ও ৭ জন। ১ জুন ১১টি দুর্ঘটনায় ১০ জন নিহত ও ৩১ জন আহত হন। ২ জুন ১৫টি দুর্ঘটনায় ২৭ জন নিহত ও ৩৮ জন আহত হন। ৩ জুন ৭টি দুর্ঘটনায় ১৩ জন নিহত ও ১৪ জন আহত হন।

জাতীয় কমিটির ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ৪ জুন ৬টি দুর্ঘটনায় ১৬ জন নিহত ও ৬২ জন আহত হন। ঈদের দিন ৫ জুন সারা দেশে ১৬টি দুর্ঘটনায় ২৬ জন নিহত ও ৭৮ জন আহত হন।

ঈদের পর দিন ৬ জুন ৮টি দুর্ঘটনায় ১১ জন নিহত ও ৩৩ আহত হন। ৭ জুন ৬টি দুর্ঘটনায় ১১ জনের প্রাণহানি ও আহত হন ১৮ জন। ৮ জুন ৭টি দুর্ঘটনায় ৮ জন নিহত ও ১১ জন আহত হন। ৯ জুন ৬টি দুর্ঘটনায় ৫ জন নিহত ও ২৪ জন আহত হন।

এছাড়া নিষেধাজ্ঞা ও কড়া নজরদারি স্বত্ত্বেও এ বছর দেশের রেল, সড়ক ও নৌ পথে ঈদযাত্রীদের কাছ থেকে প্রতিটি ক্ষেত্রেই বাড়তি ভাড়া আদায় করা হয়। প্রচুর সংখ্যক চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনাও ঘটে।

কমেন্টসমুহ
সিক্রেট ডাইরি সিক্রেট ডাইরি

Top