fbpx

দরিদ্রদের রক্ত চুষে নিজেদের পরিবর্তন ঘটাচ্ছে ঋণ দেয়া এনজিওগুলো

গরীব মানুষের কিস্তির টাকা নিয়ে পালিয়েছে টিএমএসএস নামে বেসরকারি একটি সংস্থার কর্মী। উল্টো ঋণখেলাপীর অভিযোগে সংগঠনটির দায়ের করা মামলায় কারাভোগ করছেন গাইবান্ধার হত-দরিদ্র দুই গৃহিনী। দণ্ডপ্রাপ্তদের মুক্তির আশ্বাসে স্বজনদের কাছ থেকে টাকাও নিয়েছে এনজিওটির কর্মকর্তা। এভাবেই ক্ষুদ্রঋণের যাতাকলে পিষ্ট হচ্ছে অভাবী জনপদ গাইবান্ধার মানুষ।

টিএমএসএসের ঋণখেলাপীর মামলায় স্ত্রী আকলিমা কারাগারে। সন্তানদেরও নিয়ে বিপাকে সদরের তরফকালের দিনমজুর আব্দুর রাজ্জাক। একই অবস্থা তার প্রতিবেশী শাহিন মিয়ারও। তাদেও অভিযোগ, মশিউর নামে টিএমএসএসের এক মাঠকর্মী সঞ্চয় ও ঋণের প্রায় অর্ধেক টাকা আদায় করে উধাও হয়। উল্টো এনজিওটির দায়ের করা প্রতারণার মামলায় সাজা খাটছে হতদরিদ্র দুই গৃহিনী।

আদালতে ছয় মাসের দন্ডপ্রাপ্ত দুই নারীর কারামুক্তির আশ্বাসে স্বজনদের ঋণের টাকা পরিশোধ করতে বলেন এনজিওটির কর্মকর্তা। দাদনের টাকা নিয়ে ৩০ হাজার টাকা পরিশোধ করলেও মুক্তি মেলেনি তাদের। এ ব্যাপারে কথা বলতে গেলে সময় সংবাদকে উৎকোচ দিতে চান এনজিওটির কর্মকর্তা।
জেলা জজ কোর্টের আইনজীবী মুরাদজামান রব্বানী বলেন, এটিকে ক্রিমিনাল অফেন্স হিসাবে দেখিয়ে যে দণ্ডটা দেয়া হয়েছে, আমার মনে হয় সেটা সঠিক হয়নি।
সরকারের সবশেষ জরিপ অনুযায়ী দেশের সবচেয়ে দারিদ্র্যপ্রবণ দশ জেলার একটি গাইবান্ধা। এ জেলায় শতকরা ৪৬.৭ ভাগ মানুষই দরিদ্র। এসব মানুষের উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে কাজ করছে ১৭ টি এনজিও। তারমধ্যে বেশির ভাগ সংগঠণ ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করে।
ক্ষুদ্রঋণের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ভাগ্যবদলের কথা বলে অভাবীদেরও রক্ত চুষে নিজেদেরও পরিবর্তন ঘটাচ্ছে এনজিওগুলো। ফলে দারিদ্রতার দুষ্টচক্র থেকে কিছুতেই বেড়িয়ে আসতে পারছেনা গরিব মানুষ এমনটাই মত বিশিষ্টজনদের।
সমাজতান্ত্রিক ক্ষেতমজুর ও কৃষক ফ্রন্টের সাংগাঠনিক সম্পাদক আহসানুল হাবীব সাঈদ বলেন, দরিদ্র মানুষ বাঁচার জন্যই এসব প্রোগ্রামে নিজেদের জড়িত করে। কিন্তু ফলাফল কিন্তু ভিন্ন।
গাইবান্ধা জেলায় মোট পরিবারের সংখ্যা প্রায় ৬ লাখ ১২ হাজার। বন্যা, খড়া আর নদীভাঙনসহ নানা প্রাকৃতিক দূর্যোগে বিপর্যস্ত এ জেলার অধিকাংশ পরিবারের মানুষ ক্ষুদ্রঋণের জালে বন্দি।

কমেন্টসমুহ
সিক্রেট ডাইরি সিক্রেট ডাইরি

Top