fbpx

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের দাবিতে যুবকের ‘আন্দোলন’

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে তাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে ফেরানোর আন্দোলনে নেমেছেন মোখলেছুর রহমান সাগর নামে এক যুবক।

রাজধানীর সেগুনবাগিচায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে শুক্রবার (১৪ জুন) দুপুরে ফেস্টুন হাতে একাই এ কর্মসূচি শুরু করেন ওই যুবক। কর্মসূচির অংশ হিসেবে কাগজে লেখা বিভিন্ন স্লোগানের ফেস্টুন হাতে সেখানে অবস্থান নেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার পর শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণ যখন বিভিন্ন কর্মসূচিতে সরগরম, ঠিক ওই সময়ে সাগরের একাই এমন ব্যতিক্রমী আন্দোলন নজর কেড়েছে অনেকের। অনেককেই সাগরের ছবি মোবাইলে ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও প্রচার করতে দেখা যায়।

সাগর তার বক্তব্যে বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী মানবতার খাতিরে ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছেন। কিন্তু তারা এখানে এসে আমাদের বন-জঙ্গল ও পাহাড় কেটে পরিবেশ ধ্বংস করছেন। মাদক পাচারসহ আরও অনেক অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছেন। তারা আমাদের দেশের পাসপোর্ট নিয়ে বিদেশ গিয়ে বিভিন্ন অপরাধ করেও ধরা পড়ছেন। এতে বিশ্ববাসীর কাছে বাংলাদেশের সুনাম নষ্ট হচ্ছে।

‘কিন্তু তাদের নিজ দেশে ফেরাতে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংগঠন এবং তাদের দেশ কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। যা অত্যন্ত দুঃখজনক। তাই আমি জাতিসংঘ এবং ওআইসিসহ সবার কাছে দাবি করছি যে, অতিদ্রুত তাদের নিজ দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হোক।’

শুধু একা এমন আন্দোলনের কারণেই নয়, সাগরের পোশাকও অনেকের দৃষ্টি কেড়েছে। তার পরনে ছিলো বাংলাদেশের পতাকার আদলে বানানো টিশার্ট। আর কপালে বাঁধা ছিলো বাংলাদেশের পতাকা। এমনকি ছোট লাঠিতে করে বাংলাদেশের পতাকা নিয়ে পেছনের দিকে প্যান্টের বেল্টের সঙ্গেও গুঁজে রেখেছেন তিনি। তার এক হাতে ছিলো হ্যান্ড মাইক ধরা। আর অন্য হাতে একটি বিশ্ব মানচিত্রের ছবি।

মোখলেছুর রহমান সাগর নামে এই যুবকের সঙ্গে কথা হয় বাংলানিউজের। তিনি জানান, তিনি কিশোরগঞ্জের ছেলে। বর্তমানে ঢাকার লালমাটিয়ায় থাকেন। ২০১৯ সালেই তিনি তেজগাঁও কলেজ থেকে হিসাব বিজ্ঞান বিভাগে স্নাতকোত্তর পরীক্ষা দিয়েছেন।

একাই আন্দোলনকারী সাগর বাংলানিউজকে বলেন, আমি ২০১৩ সাল থেকে বিবেকের তাড়নায় বিভিন্ন সময় বিভিন্ন স্থানে সামাজিক ইস্যু, অন্যায়ের প্রতিবাদ এবং সচেতনতামূলক কাজ করে আসছি। জানিনা আমার এই কাজে কোনো ফল হবে কি না? তবে আমার ভালো লাগে বলেই আমি এসব কাজ করি।

তার এমন আন্দোলনে কেউ শামিল না হলেও, তাকে দেখে যে অনেকেই অনুপ্রাণিত হয়, তা উপস্থিত লোকজনের কথাতেই বোঝা যায়। ‘যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে, তবে একলা চলোরে’- কবি গুরুর এই গানের লাইন সাগর যে ভালোভাবেই হৃদয় দিয়ে উপলব্ধি করেছেন নিঃসন্দেহেই তা বলা যায়।

কমেন্টসমুহ
সিক্রেট ডাইরি সিক্রেট ডাইরি

Top