সেই নেশার রাতের পর মেয়েটি প্রেগন্যান্ট হয়ে যায়…

“মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে আমি। মোটামুটি টাকা পয়সার অভাব নেই। বাবা মাল্টিনেশন কোম্পানিতে চাকুরী করে। আমরা তিন ভাই বোন। সবার বড় আপু, পরে ভাইয়া,তারপর আমি। আপু কলেজে পড়া অবস্থায় নিজের পছন্দে একটা অযোগ্য ছেলেকে বিয়ে করে। আপুর জন্য বাবা মা কে কষ্ট পেয়ে কাঁদতে দেখি। তখন থেকে একট সিদ্ধান্ত নেই যে কোনোদিন বাবা মার অমতে বিয়ে করবো না।

আমি যখন ক্লাস সেভেনে পড়ি তখন আমাকে আমার এক কাজিন প্রোপোজ করে। সে তখন ক্লাস টেনে পড়ে। কিন্তু আমি পাত্তা দেইনা। এর কিছুদিন পরেই আমার এক বন্ধু যার সাথে ছোট থেকে এক সাথে এক স্কুলেই পড়ি সে আমাকে প্রোপ্রজ করে। আমি তাকেও না করে দেই। ও আমাকে ছোট থেকেই খুব পছন্দ করে। কম্বাইন ক্লাস হওয়ায় এক ক্লাসেই ছিলাম আমরা। কিন্তু কখনও আমাকে ডিস্টার্ব করেনি। খুব ভদ্র ছেলে। স্টুডেন্টও ভালো। পারিবারিক অবস্থা আমাদের থেকে ভালো না হলেও মোটামুটি ভালো। ওর বাবা মা দুইজনই সরকারি চাকুরী করে। ওরা জমজ দুই ভাই, আমরা একসাথেই পড়ি।

এক সাথে স্কুল কোচিং থাকায় প্রয়োজনে মাঝে মধ্যে বন্ধু হিসেবে ফোনে কথা হতো,দেখা হতো। যখন ক্লাস টেনে পড়ি তখন ও এসএসসি প্রস্তুতি কোচিংয়ের জন্য ঢাকায় চলে যায়। তখন হঠাৎ করেই আমি ওকে মিস করতে শুরু করি। তবুও কখনও প্রকাশ করিনি। উল্টো ও যোগাযোগ করার চেস্টা করলেও আমি করিনি। Ssc পরীক্ষার আগে হঠাৎ খবর পাই ও কেমন হয়ে গেছে, পরীক্ষা দিতে চায় না। ওর জমজ ভাই আমার হাতে পায়ে ধরে যেন ওকে আশ্বাস দিয়ে পরীক্ষাটা দিতে বলি। ক্লাসের সব বন্ধুবান্ধবীর অনুরোধে ও যেন পরীক্ষা দেয় সেটা লিখে চিঠি দেই। ও আবার স্বাভাবিক হয়ে পরীক্ষা দেয়। তখন থেকে ওর সাথে আমার একটু একটু যোগাযোগ হয় কিন্তু প্রেম হয়নি। তারপর পরীক্ষার রেজাল্ট খুব ভালো হলো আমাদের। ওর বেশি ভালো হওয়ায় ঢাকার নাম করা কলেজে ভর্তি হয়ে যায়। আমি স্থানীয় কলেজেই ভর্তি হই। সায়েন্সে পড়ার কারণে পড়ার চাপ বেশি থাকায় ওর সাথে আমিই কোনো যোগাযোগ করতাম না। ও ফোন দিলেও ধরতাম না। এরপর একদিন ও অনেকগুলো ঘুমের বড়ি খায়, অসুস্থ অবস্থায় হসপিটালে ভর্তি করে তার পরিবার। তখনি ওর পরিবার আমার কথা জানতে পারে। পরে আমি ওকে বলতাম ভালো করে পড়াশোনা করো hsc এর পরে কথা হবে। উল্টাপাল্টা কিছু করতে না করলাম। আমার কথা মতো ও আর ফোন দিতোনা। ভালো করে পড়তো।

কলেজ ফাস্ট ইয়ারে থাকাকালীন সময়ে আমার ফুপাতো বোনের বিয়েতে ৭দিন থাকি। সেখানে আমার সেই কাজিনের সাথে দেখা হয়। ও তখন সিএ তে পড়ে। সিসি পর্যন্ত শেষ হওয়ায় পাশাপাশি ভালো বেতনের চাকরিও করে। তখন বিয়ে বাড়িতে ও আমাকে ৩ বছর পর আবার প্রোপোজ করে। নানাভাবে ইম্প্রেস করার চেষ্টা করে। বিয়ে বাড়ি থেকে আসার পর প্রায় ফোন দিতো। হঠাৎ ওকে আমার ভালো লেগে যায়। আমাদের একটা সম্পর্কে হয়ে উঠে। একদিনের জন্য ফোনে কথা না বললে ভালো লাগতো না। আমাদের মধ্যে খুব ফ্রেশ রিলেশন ছিলো, কখনও বাজে কথা হয়নি। ও ঢাকায় থাকার কারণে বেশি দেখা হতো না। ঢাকা অনেক দুরে আমাদের ওখান থেকে। কাজিন হিসেবে যেমন দেখা সাক্ষাত হতো তেমনি। আলাদা ভাবে কখনও দেখা করিনি। ও পারিবারিক ভাবেই আমাকে সব সময় বিয়ে করতে চাইতো। আমিই ওকে বলতাম hsc শেষে ভালো কোনো জায়গায় ভর্তি হই তারপর দেখা যাবে।

খুব ভালোই চলছিলো এক বছর। হঠাৎ খেয়াল করলাম ও কেমন যেন হয়ে গেছে। কিছু বলতে চেয়েও আমাকে বলে না। আমাকে ফোন দিয়েও চুপচাপ থাকে। একদিন হঠাৎ ওর এক বুয়েটে পড়া বান্ধবী ফোন দিয়ে কান্নাকাটি করে। আমাকে জানায় সে প্রেগন্যান্ট। ও এমনিতে ড্রিঙ্ক করেনা। মেয়েটির বার্থডে পার্টিতে ড্রিঙ্ক করে সব বন্ধুবান্ধব মিলে। ওর সাথে অসচেতন ভাবে শারিরিক সম্পর্ক হয় সেই মেয়েটির। এছাড়া মেয়েটি যে ওকে পছন্দ করতো এটা ও আমাকে বলেছিলো।

বান্ধবী প্রেগন্যান্ট শোনার পর থেকে আমার সব কিছু অন্ধকার নেমে আসে। ওর সাথে কথা হওয়ার সময় ও অনেক কান্নাকাটি শুরু করে। ও আমাকে ছাড়া কাউকে বিয়ে করতে চায় না। ওই মেয়েটি একটা বেপোরোয়া মেয়ে ওকে সে বিয়ে করতে চায়না। মেয়েটির আগেও আরো অনেক ছেলের সাথে সম্পর্ক ছিলো। ও বলছে মেয়েটি ওকে ফাঁসানোর জন্য ইচ্ছা করে নেশাগ্রস্থ অবস্থায় এমন করেছে। কিন্তু আমি কিছুতেই শারীরিক সম্পর্কটা মেনে নিতে পারিনি। তাই কোনো সিদ্ধান্তে যেতে না পেরে ওকে বলি মেয়েটিকে বিয়ে করতে। ও যোগাযোগ করতে চাইলেও আমি এতোটাই আঘাত পাই যে ওর সাথে কোনো যোগাযোগ করিনি। তখন আমি hsc পরীক্ষার্থী ছিলাম। আমি আর পরিক্ষায় দিতে পারিনি সেবার। একদম ভেঙে পড়ি। বাসার সবাই আমাকে নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে। কিন্তু কাউকে কিছু বলিনি। নিজে নিজেই কান্নাকাটি করি। রেজাল্টের খবর নিতে গিয়ে সে শোনে আমি পরীক্ষা দেই নাই।

আমি ভালো স্টুডেন্ট হওয়া সত্ত্বেও পরীক্ষা দেই নাই কেন,আর আমি কেমন হয়ে গেছি আমার ক্লাসের সেই বন্ধুটি জানতে চায়। আমি সব কিছু ওর সাথে শেয়ার করি। ও খুব দু:খ পায়। আমাকে বলে সে এতো আমাকে ভালোবাসে তবুও তাকে না ভালো বা বেসে কাজিনকে কীভাবে ভালোবাসলাম? আমি চুপ থাকি আর কিছু বলিনা। তারপর ও আমার খোঁজ খবর নিতো আমাকে বোঝাতো। এরপর ও পাবলিক ইউনিভারসিটিতে ইঞ্জিনিয়ারিং চান্স পেয়ে ভর্তি হয়ে যায়। আমি পরের বার পরীক্ষা এক বিষয়ে খারাপ করি। এতোদিন ও সব সময় আমার পাশে,আমাকে এখনও আগের মতোই ভালোবাসে। আমার সাথে প্রেম না হওয়ায় আমার এক পাবলিকে পড়া সুন্দরী বান্ধবী ওকে প্রোপোজ করেও ব্যার্থ হয় বেশ কয়েকবার, কারণ ও আমাকে ছাড়া অন্য কাউকে ভালোবাসে না। ও আমার সাথে প্রেম করতে চায় না তবে বিয়ে করতে চায়। আর এটা ওর মা ও জানে। ওর মা এটাও বলে ও যাকে বিয়ে করবে তারা সেটাই রাজি।

আমাকে প্রায় ওর আম্মু ওদের বাসায় যেতে বলে আমিই যাই না। আমার স্বাভাবিক জীবনে ওর গুরুত্ব অনেক। ওকে আমার ভালোলাগে। কিন্তু ভালোবাসি কিনা জানিনা। সবসময় ভয় হয় মনে যদি আগের মতো কিছু হয় আবার। নতুন কোনো প্রেমেও আমি জড়াতে চাই না। আর আমি প্রেম করি বা নিজের পছন্দে বিয়ে করে বাবা মা কে আপুর মতো কষ্ট দিতে পারবোনা। আমি রাজী থাকলে এখনি ও ওর পরিবার নিয়ে আমার বাসায় আসতে চায়। কারণ ও আমাকে হারাতে চায় না। আমি বলেছি দুইজনই পড়ালেখা শেষ করি চাকরী করি তারপর নিশ্চয় আমার বাবা মা আপত্তি করবে না। কিন্তু এখন তো বাবা মা মানবেনা। কিন্তু ও খুব পাগলামি করছে। এমন অবস্থায় কী করতে পারি? ”

পরামর্শ:
তোমার চিঠিটি পড়ে বুঝতে পারলাম যে তুমি খুব বুদ্ধিমতী একটি মেয়ে। হ্যাঁ, ভুল মানুষের সাথে ভালোবাসা আমাদের হতেই পারে, কিন্তু ত্মি এখন পর্যন্ত যা ডিসিশন নিয়েছ, সবই ঠিক নিয়েছ। তোমার কাজিনের সাথে সম্পর্ক ভেঙে ফেলাটা ঠিক ছিল। কারণ স্পষ্টতই সে নিজেকে বাঁচানোর জন্য ওই মেয়েটির নামে মিথ্যা বলছিল। সবচাইতে বড় কথা, একটা ভালো ছেলের এমন বন্ধু বান্ধবী থাকবেই বা কেন যারা নেশা করে! তোমার নিজের জীবনে খারাপ প্রভাব পড়লেও তুমি যে ব্যাপারটি থেকে বের হয়ে আসতে পেরেছো, এটার জন্য তোমাকে অভিনন্দন আপু।

পরের যে ছেলেটি, সে তোমাকে ভালোবাসে বলেই মনে হয়। কারণ সুখে দুঃখে পাশে থাকা আসলেই কঠিন। তাঁকে তুমি যা বলেছো, সেটাও একদম ঠিক। লেখাপড়া করে বড় হও, তারপর ও বাসায় প্রস্তাব দিলে মা বাবা যদি রাজি হয়, তাহলে বিয়ে করতে পারো। ছেলেটির মাও যেহেতু সব কিছু জানে, ছেলেটি তোমার ব্যাপারে সিরিয়াস। আপাতত কিছু বছর বন্ধুর মত পাশাপাশি চলো, জেনে নাও পরস্পরকে। সম্পর্ক হবে কি হবে না সেটা সময়ই বলে দেবে।

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Most searched keywords: Insurance, Loans, Mortgage, Attorney, Credit, Lawyer, Donate, Degree, Hosting, Claim, Conference Call, Trading, Software, Recovery, Transfer, Gas/Electricity, Classes, Rehab, Treatment, Cord Blood, domain, music, mobile, phone, buy, sell, classifieds,recipes
Top
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com