‘ইজি রেসিপি’র ইউটিউব ও ফেইসবুকে আয়

পড়াশোনা শেষ করে বিয়ের পর প্রতিদিন রান্নাঘরে যেতেই হয়। মাছের ঝোল কিংবা পিৎজা, বিরিয়ানি, না হয় কেক। আর না হলে খাসির রেজালার সঙ্গে টকদই বানিয়ে বোরহানি। ঘর-সংসার সামাল দিতে গিয়ে মজাদার এসব খাবার রান্না রপ্ত করতে করতে এখন তো পাকা রাঁধুনি। আর এই রান্না বা রন্ধনশৈলীকেই আয়ের পথ হিসেবে বেছে নিয়েছেন আফসানা ফেরদৌস।

রন্ধনশিল্পী আফসানা মজাদার খাবার তৈরির রেসিপি ক্যামেরাবন্দী করে আপলোড করেন ইউটিউব আর ফেসবুকে। আফসানার ‘ইজি রেসিপি’র ইউটিউব আর ফেসবুক পেজে অনুসারী এখন প্রায় সোয়া ছয় লাখ।

আফসানা জানালেন, সতর্ক হলে প্রতি মাসে কম করে হলেও এক হাজার ডলার বা প্রায় ৮০ হাজার টাকার বেশি আয় করা সম্ভব। আয়ের বিষয়টি জোয়ারভাটার মতো ওঠানামা করে। ইউটিউবে প্রতি মাসে ৫০০ থেকে ১০০০ ডলার উপার্জন করা যেতে পারে। ফেসবুকে চার হাজার ডলারও আসতে পারে। কখনো কখনো প্রতি মাসে আয় ১৫ হাজার ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা হতে পারে। এর সঙ্গে যদি স্পনসর হিসেবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান যোগ দেয়, তাহলে অঙ্ক আরও ওপরে উঠবে।

আফসানার মতে, বেশি টাকা আয় করার জন্য মানসম্পন্ন রেসিপি হতে হবে। ভিডিওসহ তথ্যপ্রযুক্তিতে ধারণা থাকতে হবে। তা ছাড়া খাবারের ক্ষেত্রে ধর্মীয় দিকটিও বিবেচনায় নিতে হবে। কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার আগে আইনি দিকসহ খুঁটিনাটি বিষয় বিবেচনা করতে হবে।

আফসানার ইজি রেসিপির দর্শক বেশি ভারতে। এরপর রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো। ২৩০ টিরও বেশি রেসিপি আপলোড করা হয়েছে। সম্প্রতি আফসানা ফেরদৌসের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনি জানান, ইউটিউব ও ফেসবুক থেকে রান্নার এসব ভিডিও দেখা হয়েছে তিন কোটিবার।

আফসানার স্কুলজীবন কেটেছে ভারতের দার্জিলিংয়ে। ওই সময়ই রান্নার সঙ্গে পরিচয়। ২০০৯ সালে বিয়ের পর স্বামী আহমেদ ইমরানুল বারীর অনুপ্রেরণায় পুরোদমে রান্নার দিকে ঝুঁকে পড়েন।

আফসানা বললেন, ‘তথ্যপ্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা স্বামী খাবার বেশ কম পরিমাণে খান। তবে ভীষণ রুচিরোধ রয়েছে। হাজির বিরিয়ানি খেতে পুরান ঢাকায় নিয়ে যেতেন। ঘরে এসে জানতে চাইতেন, এভাবে রান্না করতে পারব কি না। আমিও ভাবতাম খাবারে নতুনত্ব আনা যায় কীভাবে।’

তথ্যপ্রযুক্তি নিয়ে কাজ করার সময় বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে ইউটিউব চ্যানেল বা ওয়েবসাইট খোলার বিষয়ে আলোচনা করতেন আহমেদ ইমরানুল বারী। সেইসব আলাপ থেকে আফসানার ইউটিউব চ্যানেল খোলার আগ্রহ তৈরি হয়।

আফসানা জানালেন, সহজ উপায়ে রান্নার চেষ্টা করা হয় বলেই ‘ইজি রেসিপি’ নাম দিয়ে ২০১৬ সালে ইউটিউব চ্যানেল খোলা হয়। প্রথম দিকে তিনটি রেসিপি আপলোড করা হতো। কখনো কখনো সংখ্যাটি কম হলে অনেক দর্শক বেশি করে রেসিপি আপলোডের অনুরোধ করতেন।

রান্নাকে পেশা হিসেবে নেওয়ার গল্প বলতে গিয়ে আফসানা বললেন, ‘আমি রান্না শিখতে অনেক সময় বাবুর্চির কাছে যেতাম। কখনো বাবুর্চিকে বাসায় ডেকে এনে বিভিন্ন খাবার রান্নার নিয়ম শিখে নিতাম। পরে নিজে রান্না করে যাচাই করতাম। ভালো-মন্দের ধারণা পেতে আত্মীয়, বান্ধবী বা প্রতিবেশীদের খাইয়ে পরখ করতাম। তারপর বাসাতেই রান্নার দৃশ্য ধারণ করি। ভিডিও সম্পাদনা করে আমার স্বামী তা আপলোড দেন। ইউটিউব থেকেই খাবারের ব্র্যান্ডিংয়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়। সেখান থেকেই ফেসবুক পেজ খুলে ফেলি। পরে ওয়েবসাইট খুলি।’

কমেন্টসমুহ
সিক্রেট ডাইরি সিক্রেট ডাইরি

Top