প্রিয় মুশফিক, বেশি চাপ কমলো না বাড়লো?

২৩*, ১১, ০, ১৫, ৪৬, ৩২, ০, ১২, ০, ২ – বাংলাদেশের সর্বশেষ দশ ইনিংসের যে নয়টিতে মুশফিকুর রহিম ব্যাট করেছেন তাতে এই ছিল তার রান। অথচ বাংলাদেশের ইতিহাসে তার মত ধারাবাহিক রান করা ব্যাটসম্যান এখন অবধি দেখা যায়নি বললেই চলে।

এবার ওয়ানডের দিকে তাকাই। ১১, ৭১, ৩৬, ৬০, ৮৯, ১৫, ২৭, ১০৬, ৬৫, ৪৯* – এমন ধারাবাহীকতা পৃথিবীর যে কোন ব্যাটসম্যানের জন্যই পরম আরাধ্য। কেন তাহলে টেস্ট আর ওয়ানডেতে এমন পার্থক্য? ওয়ানডেতে যিনি রানের বন্যা ছোটান, টেস্ট এলেই কেন তিনি এমন মৃয়মাণ?

টেস্টের একটা ব্যাখ্যা দেয়া যায়। সেটা হল তিনি হল অধিনায়ক। তার সাথে তাকে উইকেটরক্ষকের বাড়তি দায়িত্ব পালন করতে হয়। বেশ ক’দিন ধরেই কথা হচ্ছিল উইকেট রক্ষকের বাড়তি দায়িত্ব পালন মুশির জন্য চাপ হয়ে যাচ্ছে। আর অধিনায়কের আঙুলের ইনজুরির সুবাদে ভারতের বিপক্ষে উইকেটের পিছনে দেখা যায় লিটন কুমার দাসকে।

এতে কি চাপ কমলো? না বাড়লো? – প্রশ্নটা করছি মুশফিককে। চাপ কমলে ব্যাটিংয়ে আরও মনোযোগ দেয়ার সুযোগ ছিল তার। সেটার ফলাফল মাত্র দুই রান। তাও আবার দলের অন্যতম সেরা পারফরমারের ব্যাট থেকে?

তাহলে কি অদৃশ্য একটা ভয় পাচ্ছেন মুশফিক? অধিনায়কত্ব হারিয়ে ফেলার ভয় পাচ্ছেন? ভাবছেন, অধিনায়কত্ব হারিয়ে ফেললে সাথে সাথে দলের জন্যও অপ্রয়োজনীয় হয়ে উঠতে পারেন!

মুশফিকের জন্য এমন ভাবনাটা অমূলক। আমার সাথে সবাই অন্তত এই ব্যাপারে একমত হবে যে, মুশফিকের মত বড় মাপের ব্যাটসম্যানের এমনটা চিন্তায় আনাটাও ঠিক না। তবে, মুশফিক ভাবতে বাধ্য হচ্ছেন বাংলাদেশের ক্রিকেট সংস্কৃতির কারনে। সেই সংস্কৃতি যার কারণে একদিন খালেদ মাসুদ পাইলটকে সরিয়ে দিয়ে তিনি চলে এসেছিলেন মূল ভূমিকায়।

সেটা জানতে হলে ফিরে যেতে হবে ১০ বছর আগে। সেবার ইংল্যান্ড সফরে মুশফিকুর রহিমকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। লর্ডস টেস্টে তিনি খেলেছিলেন স্রেফ ব্যাটসম্যান হিসেবে। পরের বছর বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে আবারও সেই একই দৃশ্য। উইকেটরক্ষক হিসেবে আছেন পাইলট, আর মুশফিক শুধুই ব্যাটসম্যান। সেবার প্রথম টেস্টে অবশ্য ছিলেন কেবল পাইলট।

২০০৭ সালের শ্রীলঙ্কা সফরে আবারও একই ঘটনা ঘটলো। প্রথম টেস্টে খেললেন পাইলট। আর দ্বিতীয় টেস্টে মুশফিক। মাঠ ও মাঠের বাইরের নানা ঘটনায় বিপর্যস্ত ছিলেন পাইলট, আগের মত ফর্মও ছিল না। আর সদ্য কৈশোর পেরোনো মুশফিকে তখন ভবিষ্যত দেখছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট।

সেই শ্রীলঙ্কা সফরের শেষ ম্যাচটাই হয়েছিল পাইলটের শেষ টেস্ট। উইকেটরক্ষকের সিংহাসনে বসলেন মুশফিক। মাঝে ধীমান ঘোষ একবার আসলেও সেটা খুব বেশিক্ষণ সময় স্থায়ী হয়নি। মুশফিকই গত দশ বছর ধরে অনেকটা চিরস্থায়ী ভাবে হয়ে আছেন বাংলাদেশের উইকেটরক্ষক; আর অবশ্যই সেটা সব ফরম্যাটে।

আর সাথে ব্যাটিং পারফরম্যান্স মিলিয়ে তিনি হয়ে উঠেছেন দলের অন্যতম বড় সম্পদ। টেস্টে ধরে খেলেন, ওয়ানডের পাওয়ার প্লেতে বোলারদের তুলোধুনো করেন – বদলে যাওয়া এক ক্রিকেটার। কঠোর অধ্যাবসায়ের কারণে দলের বাকিদের জন্য রোল মডেল হলেন এই মুশফিক।

কি ভাবছেন মুশফিক? আপনার পরিনতিও পাইলটের মত হবে?

আর কাকতালীয় ভাবে মুশফিকের ক্যারিয়ারের শুরুতে যেমন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) প্রধান নির্বাচক ছিলেন ফারুক আহমেদ; এখনও আছেন তিনি। সেজন্যই কি ভয়টা মুশফিকের আরও বেশি?

সেই প্রশ্নের উত্তরটা জানা যায়নি। তবে, আমি বলি, মুশফিক ভয় পাওয়ার ব্যাপারটা অন্তত আপনার সাথে যায় না। আপনি ভয় দেখাবেন প্রতিপক্ষকে। কাঁপিয়ে দেবেন বিশ্বসেরা সব পেসারদের বুক। স্পিনারদের আত্মবিশ্বাসে চিড় ধরাবেন।

অধিনায়কত্ব থাকুক আর নাই থাকুক, উইকেটের পিছনে দাঁড়ান আর নাই দাঁড়ান গোটা বিশ্ব জানে, পরিসংখ্যান বলে বাংলাদেশ ক্রিকেটের ইতিহাসের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান আপনি।

আপনার ভয় কাটুক, স্লগ সুইপে প্রতিপক্ষের ভয় বাড়ুক – এই প্রার্থণা করি!

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Most searched keywords: Insurance, Loans, Mortgage, Attorney, Credit, Lawyer, Donate, Degree, Hosting, Claim, Conference Call, Trading, Software, Recovery, Transfer, Gas/Electricity, Classes, Rehab, Treatment, Cord Blood, domain, music, mobile, phone, buy, sell, classifieds,recipes
Top