বোলারদের ওপর মুশফিকের যত রাগ

ম্যাচের আগেও বলেছিলেন, জয়ের জন্যই খেলবে বাংলাদেশ। কিন্তু আট ব্যাটসম্যান, চার স্পিনার, এক পেসার নিয়ে টেস্টে জেতা আসলে কতটা সম্ভব? আবার ড্রয়ের জন্য যেভাবে ব্যাটিং করতে হয়, সেটারও নমুনা পাওয়া গেল কোথায়? বাংলাদেশ না খেলেছে জয়ের জন্য, না খেলতে পেরেছে ড্রয়ের জন্য। ব্যাটে-বলে দুই ক্ষেত্রেই ব্যর্থ। সেভাবে পরীক্ষা দিতে হয়নি। যতটুকু দিতে হয়েছে, তাতে পাস নম্বর মিলছে কই?

ব্যাটসম্যানদের পারফর্ম নিয়ে রাগ আছে। তবে মুশফিকুর রহিম বেশি তোপ দাগলেন বোলারদের ওপরই। বোলাররা যদি ঠিকঠাক বল না করতে পারেন, অধিনায়কের কোনো পরিকল্পনা কাজে আসে না, ‘উইকেট বোলিং-সহায়ক নাও হতে পারে। কিন্তু সব সময় ঠিক জায়গায় বল তো করতে হবে। আপনি ভালো লেংথ বোলিংয়ের জন্য ফিল্ডিং সাজালেন, বোলার দিল ফুলটস কিংবা শর্ট বল! তাহলে অধিনায়কের পরিকল্পনা কাজে আসবে না।’
এর পরই সেই আপ্তবাক্য, ‘ক্রিকেট অবশ্য এমনই। পরিকল্পনা কাজে লাগলে বলবেন, অধিনায়কের দারুণ রণকৌশল ছিল। আর কাজে না লাগলে বলবেন ভিন্ন কথা।’ পাকিস্তানের বিপক্ষে ঢাকা টেস্টের পরেও বোলারদের কাঠগড়ায় তুলেছিলেন। মুশফিক আক্রমণাত্মক নন—এই কথা শুনে শুনে হয়তো ক্লান্ত। চাইলে বলতে পারতেন, টেস্টের লম্বা পরিসরে আক্রমণাত্মক হওয়ার মতো বোলার তো আগে দাও।
এর পরই তার কাঠগড়ায় ব্যাটসম্যানরা। সেট হওয়ার পরও ইমরুল-মুমিনুল আউট হয়েছেন। দল ভীষণ চাপে পড়েছে। মুশফিক বললেন, ‘এভাবে খেলে যে তারা রান করে না, তা নয়। তবে তখন দুই প্রান্ত থেকে দুই অফ স্পিনার বোলিং করছিল, ওদের সতর্ক থাকাই উচিত ছিল, কারণ তারা তখন সেট হয়ে গেছে। তাদের শট সিলেক​শনে ভুল ছিল।’
ব্যাটিংটা তবু টেস্টে কখনো কখনো জ্বলে ওঠে। বাংলাদেশের বোলিং টেস্টের উপযোগী কিনা, সেই প্রশ্নই যেন পরোক্ষে তুলে দিলেন অ​ধিনায়ক, ‘গত কয়েক টেস্টে আমাদের ব্যাটিং ভালো হয়েছে। বোলিংয়ে আরও উন্নতি করতে হবে। কোনো দল যদি সহজে ৪০০-৫০০ রান করে ফেলে তাহলে সেখান থেকে লড়াইয়ে ফিরে আসাটা কঠিন। বোলিংয়ে আমাদের আরও উন্নতি করতে হবে।’
প্রথম দিন থেকেই ওঠা সেই এক পেসার নিয়ে খেলার পরিকল্পনা নিয়ে কথা উঠল আজও। মুশফিকের দাবি তাদের পরিকল্পনা ঠিকই ছিল। তবে এই বাজিতে জিততে হলে ভাগ্যের সহায়তা লাগত। জিততে হতো টস। টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করে ভালো স্কোর গড়তে পারলে উইকেটও পুরোনো হতো। স্পিনাররা পেত সুবিধা। টসটা জিততে না পারায় হিসাবটা মেলেনি। বরং স্পিনের সুবিধা ভারতই বেশি পেয়েছে। কিন্তু টসভাগ্য তো আর নিয়ন্ত্রণ করার সুযোগ নেই। তাই ভবিষ্যতে এক পেসার খেলানোর পরিকল্পনা নিয়ে ভাববেন বলেও জানালেন।
পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ থেকেই কথা উঠছে শুভাগত হোমকে নিয়ে। মুশফিক প্রথমে ব্যাখ্যা দিলেন কেন দলে শুভাগত। বিসিএলের সর্বশেষ ম্যাচে বিসিবি উত্তরাঞ্চলের বিপক্ষে ৯ উইকেট নিয়েছিলেন। সে কারণেই দলের সমন্বয়ে তাঁকে রাখা। কিন্তু ঘরোয়া ক্রিকেটের ফর্ম আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মেলে ধরতে না পারলে কারও জায়গাই সুনিশ্চিত নয়। সেটা শুভাগত নয়, সবার জন্যই যে প্রযোজ্য, সেটাও মনে করিয়ে দিলেন।
মুশফিক এখন তাকিয়ে ওয়ানডে সিরিজের দিকে। প্রতিটি ওয়ানডে বাংলাদেশের জন্য ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। কেননা, বাংলাদেশের সামনে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি ও বিশ্বকাপ খেলার ভাবনা। এ সংস্করণে অবশ্য ভারতকে চ্যালেঞ্জই জানাচ্ছেন মুশফিক। আর এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রেরণা ২০১২ এশিয়া কাপ। মুশফিক তাই বললেন, ‘হোম কন্ডিশনে আমরা খুবই ভালো ক্রিকেট খেলছি। বিশ্বকাপেও খুব ভালো খেলেছি। তার একটাই কারণ, আমাদের ব্যাটসম্যান-বোলাররা দারুণ ফর্মে আছে। তারা যদি তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী খেলতে পারে, ভারত যত শক্তিশালী হোক, দারুণ কিছুই হবে।’
​ কিন্তু বোলার-ব্যাটসম্যানদের চেয়ে তো বেশি করে খেলছে প্রকৃতিই! অনেক নতুন হিসাব তাই রাখতে হচ্ছে মাথায়। ডাকওয়ার্থ-লুইস, রিজার্ভ ডে—এইসব। বাংলাদেশের জন্য সুখবর হলো, ভারতের বিপক্ষে সিরিজটা ২-১ ব্যবধানে হারলেও তাদের রেটিং পয়েন্ট হবে ৮৯। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে টপকে চলে যাবে সাতে। ২-১ সিরিজ জিতলে বাংলাদেশের রেটিং পয়েন্ট হবে ৯৩। আর বাংলাওয়াশ করতে পারলে বাংলাদেশের রেটিং পয়েন্ট হবে ৯৬। ছয়ে থাকা ইংল্যান্ডের রেটিং পয়েন্টও ৯৬।

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Most searched keywords: Insurance, Loans, Mortgage, Attorney, Credit, Lawyer, Donate, Degree, Hosting, Claim, Conference Call, Trading, Software, Recovery, Transfer, Gas/Electricity, Classes, Rehab, Treatment, Cord Blood, domain, music, mobile, phone, buy, sell, classifieds,recipes
Top