মা

আজ মায়ের সাথে অনেক ঝগড়া হয়ে গেলো আমার। মায়ের এইসব বকাবকি আমার একদম ভালো লাগেনা! এখন আমি আর আগের মতো ছোট নই যে যখন ইচ্ছা করলো আর আমাকে ধমক দিয়ে দিলেন! আমার মায়ের একটা অভ্যাস, আমি যাই করি সেটাই উনার ভালো লাগেনা। মোবাইলে মুভি দেখলে মায়ের সমস্যা, দীর্ঘক্ষণ ফেইসবুক চালালে সমস্যা। এই বিষয় নিয়ে একটু আগেই মায়ের সাথে ঝগড়া করে বাসা থেকে বের হয়ে আসলাম।

বাসা থেকে বের হয়ে চায়ের দোকানে যাচ্ছিলাম তখন দেখলাম এক বৃদ্ধ মহিলা রাস্তা ক্রস করছিলেন। কিন্তু গাড়িগুলো এতো দ্রুত চলাচল করছিলো যে মহিলাটি রাস্তা ক্রস করতে পারছিল না। আমি ভাবলাম মহিলাটাকে রাস্তা পার করিয়ে দিয়েই দোকানে যাবো!

কাকিমা, কোথায় যাবেন?

মহিলা টা আমার হাতের স্পর্শ পেয়ে একটু কেঁপে উঠলেন। বললেন, বাবা আমাকে একটু রাস্তা টা পার করিয়ে দেবে?

কোথায় যাবেন কাকি?

ও পারে যাবো বাবা!

মহিলাটার হাত ধরে আমি রাস্তা পার করিয়ে দিলাম। রাস্তা পার করিয়ে যখন চলে আসছিলাম তখন মহিলা টা বলল, বাবা! ঈশ্বর তোমাকে অনেক বড় করুক! জীবনে অনেক অনেক উন্নতি করো বাবা। আমি চলে আসবো তখনই মহিলাটা আবার বলল, বাবা একটা সাহায্য করবে?

হুম,,, বলেন!

আমাকে একটু পানি খাইয়ে দেবে! খুব পিপাসা পেয়েছে।

আপনি এখানে বসুন আমি নিয়ে আসছি! মহিলাটাকে বসিয়ে আমি দোকান থেকে এক গ্লাস পানি নিয়ে আসলাম। মহিলাটা পানি পান করলো! মহিলাটাকে দেখে মনে হচ্ছিল কয়েকদিন ধরে মনে হয় কিছুই খাননি। আমি মহিলাটাকে জিজ্ঞেস করলাম, কাকিমা কিচ্ছু খাবেন। মহিলা টা গ্লাস টা আমার হাতে দিয়ে বলল, না বাবা কিছু খাবোনা। আমি জানি মহিলাটা একটু লজ্জাবোধ করছেন। আমি উনার লজ্জা কাটানোর জন্য বললাম, কাকিমা! আমি আপনার ছেলের মতোই! চলেন কিছু খেয়ে নিবেন।
আমার কথা শুনার পর না জানি মহিলাটা কি ভেবে কেঁদে পড়লো। মহিলা ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে লাগলেন। আমি কান্নার কারণ জিজ্ঞেস করলে বললেন, বাবা তোমার মতো আমার একটা ছেলে ছিলো!!

ছিলো মানে? এখন কি নেই?

আছে কিন্তু আমি আর তার মা নই?

আমি মহিলাটার কোনো কথাই বুঝতে পারছিলাম না। বললাম, আগে আপনি কান্না বন্ধ করুন! আমি মহিলাটার চোখ মুছে দিয়ে বললাম, সবকিছু খুলে বলুন!

আমারো তোমার মতোই একটা ছেলে আছে। এক বছর আগেই আমার ছেলে ভালো একটা কোম্পানিতে চাকরি পেয়েছিলো। সেই কোম্পানিতে চাকরি করা এক মেয়েকে আমার ছেলে ভালোবাসতো। ছেলে আমার আমাকে এসে বললো, মা আমি একটা মেয়েকে ভালোবাসি। মেয়েটা আমার সাথেই কাজ করে আর আমরা দুজনে বিয়ে করতে চাই। আমি চাইতাম আমার ছেলে যাকেই বিয়ে করুকনা কেন, বিয়ের পর যেন সুখে থাকে। ছেলের কথামতো আমি তার বিয়ে ঐ মেয়েটার সাথে করিয়ে দিই।

আমি মহিলাটার পাশেই বসে কাহিনী টা শুনছিলাম। মহিলাটা আরোও বলল,

বিয়ের পর কয়েকদিন ভালোই কাটলো। কিন্তু তারপর বউমা আমাকে কেমন জানি অন্য নজরে দেখতো। হিংসের নজরে! আমি যদি বউমাকে একটু ধমক দিতাম বা বউমাকে কোনো কাজ করতে না করতাম তাহলে সে আমার ছেলের কাছে কথাগুলো বাড়িয়ে বলতো। আর আমার ছেলে বউয়ের কথাগুলো বিশ্বাস করে আমাকেই গালাগালি করতো। আমি কতকরে বলতাম যে আমার কোনো দোষ নেই তবুও আমার ছেলে আমাকেই গালাগালি করতো। এরপর প্রতিদিনই বউমা আর আমার ছেলে আমাকে গালাগালি করতো। বউমা তো নাহয় আমার নিজের কেউনা, কিন্তু আমার ছেলে আমাকে অবিশ্বাস করতো এসব দেখে আমি খুবই অবাক হতাম।

তারপর কি হলো কাকিমা?

তারপর আর কি? আমার কপাল পোড়া। একদিন বউমা রান্না করছিলো। রান্না শেষে বউমা গ্যাস ওন রেখেই টিভি দেখতে লাগলো। বউমাকে যখন বললাম, বউমা শুধু শুধু টিভি দেখলে কি হবে! গ্যাস যে ওন করে রেখেছো সেটা কেন বন্ধ করলেনা? বউমা গ্যাস বন্ধ করার জায়গায় আমাকেই গালাগালি করতে শুরু করলো। আমার ছেলে অফিস থেকে বাসায় ফিরে যখন দেখলো আমরা ঝগড়া করছি তখন সে বউমাকে কিছু জিজ্ঞেস না করে আমাকে গালাগালি করতে লাগলো। তারপর আমার ছেলে আমাকে বলল, মা তুমি ভুল করেছো, তুমি এক্ষুণি প্রিয়ার কাছে ক্ষমা চাও। ছেলের মুখে এমন কথা শুনে আমার কলিজাটা ফেটে গেলো। আমার আপন ছেলে বলছে তার বউয়ের কাছে ক্ষমা চাইতে!!

তারপর? আপনি কি ক্ষমা চেয়েছিলেন?

না! আমার তো কোনো দোষ নেই তাহলে আমি কেন ক্ষমা চাইবো?

তারপর?

আমি বউমার কাছে ক্ষমা চাইনি বলে আমার ছেলে আমাকে ঘর থেকে তাড়িয়ে দেয়। যে ছেলেকে নয়মাস পেটে ধরলাম, ছোট থেকে এতো বড় করলাম। যে ছেলে আমার হাত ধরে চলতে শিখলো সেই ছেলে বউয়ের কথায় এসে আমাকে গলাধাক্কা দিয়ে তাড়িয়ে দিলো। কি করার বাবা সবই কপাল। তবুও চাই আমার খোকাটা যেন সুখে থাকুক।

কথাগুলো বলার সময় মহিলাটা কাঁদছিলো। মহিলার কথা শুনে আমারো চোখে কান্না চলে আসলো। আমি মহিলাটাকে হোটেলে নিয়ে পেট ভরে ভাত খাওয়ালাম। মহিলাটা যেন অনেকদিন পর খেতে পেয়েছে। খাবার শেষে মহিলাটা আমাকে বলল, তোমার মা অনেক ভাগ্যবতী বাবা যে তোমার মতো সন্তান পেয়েছেন। আমি মহিলাটাকে একটা বৃদ্ধাশ্রমে পৌছে দিয়ে বললাম, কাকিমা আপনি আজ থেকে এখানেই থাকবেন। আমি মাঝেমাঝে আপনাকে এসে দেখে যাবো। মহিলাটাকে বৃদ্ধাশ্রমে রেখে আমি বাসায় চলে আসলাম।

বাসায় এসে দেখি মা খাবার নিয়ে বসে আছেন। আমাকে দেখে মা জিজ্ঞেস করলেন, কোথায় ছিলিরে খোকা? কখন থেকে তর জন্য খাবার নিয়ে বসে আছি!

মা তুমি খাওনি?

তুই না খেলে আমি কিকরে খাই?

মা আমাকে মাফ করে দাও মা!

কেনরে কি হয়েছে?

মা আমি প্রতিদিন তোমার সাথে অনেক খারাপ ব্যবহার করি। তোমার কি খারাপ লাগেনা মা? আমাকে মাফ করে দাও মা!

ধুর পাগল! তুই তো আমার লক্ষ্মী ছেলে!

মা আজ আমাকে নিজের হাতে খাইয়ে দাও!

মা আমাকে খাইয়ে দিলেন। আজ যেন অনেকদিন পর মায়ের হাতে পেট ভরে খেতে পেলাম। সত্যিই! এই পৃথিবীতে মায়ের তুলনা কারো সাথে হয়না।

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Most searched keywords: Insurance, Loans, Mortgage, Attorney, Credit, Lawyer, Donate, Degree, Hosting, Claim, Conference Call, Trading, Software, Recovery, Transfer, Gas/Electricity, Classes, Rehab, Treatment, Cord Blood, domain, music, mobile, phone, buy, sell, classifieds,recipes
Top
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com