বসুন্ধরা নদীতে অবৈধভাবে জাটকা ইলিশ আহরণ, ২ মণ ইলিশ সহ ৫ জেলে আটক

সিজনাল নদীর শহর ঢাকার উত্তাল বসুন্ধরা নদীতে গত ৮ এপ্রিল বিকাল ৪ টায় একটি মাছ ধরা নৌকায় ইলিশ ধরতে দেখা যায়। এ দিনের ভারি বর্ষণের পর নগরীর মিরপুর, মালিবাগ ও বসুন্ধরায় সাময়িক নদী জেগে উঠায় সুযোগসন্ধানী জেলের দল মাছ নিধনে নেমে পড়ে। দেশে পহেলা বৈশাখের সাম্প্রতিক ঐতিহ্য পান্তা ইলিশ দিয়ে উৎযাপনের জন্য বাজারে ইলিশের বিপুল চাহিদা থাকলেও মার্চ-এপ্রিল মাসে জাটকা ইলিশ ধরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ বলে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

কিন্তু eআরকির মৎস বিষয়ক সহ-সম্পাদক ইকবাল নয়ন এ ব্যাপারে খোঁজ নিতে এক নৌকাবাইচ দলের সাথে করে ছুটে যান বসুন্ধরা নদীতে। সেখান থেকে পাওয়া সচিত্র রিপোর্ট থেকে জানা যায়, পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে এক ঝাঁক ইলিশ পদ্মার পার থেকে মালিবাগ মিরপুর ইত্যাদি নদীর শাখা-প্রশাখা বেয়ে চলে আসে বসুন্ধরায়। তখনই কিছু লোভী মাঝির ছড়ানো জালে একের পর এক আটকা পড়তে শুরু করে।

এ ব্যাপারে ধরা পড়া এক জেলে আমাদের বলেন, ‘আমরা আসলে মাছ ধরি না, বৃষ্টির সময় KUBER নৌকা শেয়ারিং সার্ভিস দেই। বসুন্ধরা এলাকায় রাইড কমপ্লিট করার সময় দেখলাম রুপালি ইলিশের ছড়াছড়ি। বৈশাখ উপলক্ষে ভাবলাম কিছু মাছ ধরে রাখি। শুনেছিলাম পদ্মায় ইলিশ ধরতে নিষেধ করা হয়েছে, কিন্তু বসুন্ধরায় তো করা হয়নি। তাই আমরা জাল নিয়ে নেমে পড়লাম। এর মধ্যে শুধু শুধু আমাদের ধরে নিয়ে গেল। বর্ষায় মানুষ মাছ ধরবে না তো করবে কী? যদি মাছ ধরতে না হয়, তাহলে যেন নদীও জেগে উঠতে না পারে- সে দিকে কর্তৃপক্ষের নজর দেয়া উচিৎ।’

বসুন্ধরা নদীতে ইলিশ কেন? এ ব্যাপারে ধরা পড়া জাটকা ইলিশদের সাথে কথা বলে জানা যায়, জন্মসূত্রে বাঙালি হওয়ায় পহেলা বৈশাখ উদযাপনে প্রতি বছরই তারা দল বেঁধে পদ্মা-মেঘনা-যমুনায় আসে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে নববর্ষের নতুন ট্রেন্ডে পড়ে এই অসময়ে খাবার টেবিলে চলে আসতে হয়। আটক এক ইলিশ আমাদের বলে, ‘মেঘনা হয়ে পদ্মাতেই আসতে পারি না! ঢাকায় আসব কুন সময়?’ কিন্তু তবুও এবার ঢাকায় কেন এলেন এমন প্রশ্নের জবাবে ইলিশটি বলে, ‘শুনলাম ঢাকার এক প্রাইভেট ভার্সিটিতে পয়লা বৈশাখ হয়ে গেছে। ভাবলাম আরও অনেক ভার্সিটিতেও হইতে পারে। তারপর নব্য সৃষ্ট নদীতে করে চইলা আসছি ঢাকায়। দুই একটা ভার্সিটিতে ঢুকতে দেয় নাই আইডি কার্ড নাই দেখে। তাই বাইরের নদীতে ঘুরাঘুরি করতেসিলাম। প্রথমে আটকাইল জেলে এরপর জেলেরে আটকাইল পুলিশ। এরপর জেলের সাথে আমরাও গেলাম জেলে!’

এদিকে কালশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমাদের জানিয়েছেন, নগরীর এই সংকটকালীন সময়ে অবৈধ ইলিশের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে তারা কাজ করে যাচ্ছেন। আর এসব অবৈধ ইলিশ যাতে কোন পার্টটাইম জেলে না ধরতে পারে সে ব্যাপারেও তারা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তিনি নিশ্চিত করেছেন, কোন ইলিশ মিরপুর নদী থেকে উত্তরা ও বসুন্ধরা নদীতে যেতে পারবে না। নদীর প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চেকপয়েন্ট বসানো হয়েছে পুলিশের কোস্টগার্ড শাখার সাহায্যে।

সর্বশেষ প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, উত্তরা, বসুন্ধরা ও মিরপুরে অবৈধ ইলিশ ধরার অভিযোগে গ্রেফতার ৫, সন্দেহের তালিকায় আছেন আরও ৭ জন। আর প্রায় দুই মণ ইলিশ জব্দ করা হয়েছে। হঠাৎ নগরীর নদীগুলোতে ইলিশের আগমনকে সন্দেহের চোখেই দেখছে পুলিশ। তাই জব্দকৃত তিনটি ইলিশকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে।

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Most searched keywords: Insurance, Loans, Mortgage, Attorney, Credit, Lawyer, Donate, Degree, Hosting, Claim, Conference Call, Trading, Software, Recovery, Transfer, Gas/Electricity, Classes, Rehab, Treatment, Cord Blood, domain, music, mobile, phone, buy, sell, classifieds,recipes
Top
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com