বৃষ্টির দিনে রিকশাওয়ালাদের গন্তব্যে যেতে রাজি করানোর ১০টি এক্সক্লুসিভ টেকনিক

বাংলা-বিহার-উড়িষ্যার শেষ নবাব পেশাগত জীবনে কী করেন বলুন তো? পারলেন না? বৃষ্টির দিনে রিকশা চালান! আকাশ থেকে পানির দুটো ফোঁটা পড়লেই কিংবা বিদ্যুৎ চমকালেই এই বাংলার প্রতিটি রিকশাচালকের ভেতরে লুকিয়ে থাকা নবাব জেগে ওঠে যেন! রিকশাওয়ালারা বৃষ্টির দিনে ভিজতে ভিজতে অনেক পরিশ্রম করে রিকশা চালান, নিঃসন্দেহে ইহা সত্য। ভাড়া কিছু বেশি তারা পেতেই পারেন। ঝামেলাটা হলো, তারা কোথাও যেতে চান না। কোথাও না মানে, কোথাও না। এ কারণেই ময়-মুরব্বিরা বলেছেন, ভার্সিটি এডমিশন টেস্টে চান্স পাওয়ার চাইতেও বৃষ্টি-দিনে রিকশা পাওয়া কঠিন!

কিন্তু বৃষ্টির দিনেই যে রিকশার প্রয়োজনটাও হয় বেশি! বৃষ্টির সময় তাহলে কী করে গন্তব্যে যেতে রাজি করাবেন রিকশাওয়ালাকে? বৃষ্টির দিনে রিকশা না পেয়ে ভিজতে ভিজতে এসে eআরকি ডেস্কে বসে তা ভেবে বের করেছেন আমাদের বৃষ্টিবিদরা!

১# খালি রিকশার সামনে গিয়ে লম্বা করে একটি কুর্নিশ দিবেন। একবার কুর্নিশে যদি তার ভাবাবেগে পরিবর্তন না হয়, তবে আবার দিবেন এবং মাথা নিচু করেই রাখবেন। যদি তিনি ইঞ্চিখানেক মাথা নেড়ে যদি সম্মতি দেয়, তবে তার কাছে কোথাও যাওয়ার জন্য অনুরোধ করবেন।

২# রিকশা ছাড়া যাওয়ার কোন গতি না থাকলে কোন এক খালি রিকশার সামনে যেয়ে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে যাওয়ার ভান করবেন। কিছু মুহূর্তের মধ্যেই একদম সব শেষ হয়ে যাবে, এমন এক আবহ সৃষ্টি করুন আপনার মাঝে সুপ্ত অভিনয়ের প্রতিভা দিয়ে। এতে করে রিকশাওয়ালা যদি আপনাকে সাহায্য করতে আসেন, তবে তার ঘাড়ে একজন মৃত্যুপথযাত্রীর (টেকনিকালি যদিও সবাই মৃত্যুপথযাত্রী, সে অন্য আলোচনা!) শেষ ইচ্ছা পূরণ করার দায়িত্ব এসে পড়বে। আর আপনার সেই শেষ ইচ্ছা হিসেবে বলবেন। ‘প্লিজ মামা, আমাকে গন্তব্যস্থলে পৌঁছে দিন!’

৩# মনোবিজ্ঞানের একটি আলোচিত বিষয় হলো রিভার্স সাইকোলজি বা বিপরীত মনোবিদ্যা। যে কাজ করতে নিষেধ করা হয়, মানুষের সে কাজটি করতেই বেশি করে ইচ্ছা করে। রিকশাওয়ালার ক্ষেত্রে তা কাজে লাগাতে চাইলে প্রথমে আপনাকে টার্গেট করতে হবে যেকোনো একটি রিকশাকে (অর্থাৎ রিকশাওয়ালাকে)। প্রথমে পরিচিত কারো সাহায্য নিয়ে সেই রিকশাওয়ালাকে আপনার গন্তব্যের এলাকায় যেতে নিষেধ করবেন। রিকশাওয়ালাদের কাছে বিভিন্ন এলাকায় যাওয়ার অনুরোধ এলেও না যাওয়ার অনুরোধ সাধারণত আসে না। তাই এমন ঘটনার সম্মুখীন হয়ে রিকশাওয়ালাটি কিছুটা চমকে উঠবেন, এবং বিষয়টি নিয়ে ভাবতে থাকবেন। যত ভাববেন, তত বেশি তার যাওয়ার জন্য জিদ চাপবে। আপনি সময় সুযোগ বুঝে নিজ গন্তব্যে যেতে তার কাছে অনুরোধ করবেন। রিভার্স সাইকোলজির কবলে পড়ে তিনি আপনাকে নিয়ে যেতে বাধ্য হবেন।

৪# রিকশাওয়ালাকে গিয়ে চ্যালেঞ্জ করুন, আপনি ভেজা রাস্তায় রিকশা চালাইতে পারেন না, তাই না? আপনারে দেইখাই বোঝা যায়। পারবেন আপনি? যান, ৫০ টাকার চ্যালেঞ্জ!’ দেখবেন সে নিজেই আপনাকে ভুল প্রমাণ করার জন্য বলবে ‘উইঠা বসেন রিকশায়, এহনি চালায়া দেখাইতাছি।’

৫# রিকশাওয়ালা মামার সাথে খেলতে পারেন ট্রুথ অর ডেয়ার। এবং কোন এক পর্যায়ে তিনি ডেয়ার নিয়ে ফেললে তাকে আপনার গন্তব্যে নামিয়ে দিয়ে আসার ডেয়ার দিতে পারেন।

৬# নীলক্ষেত থেকে ‘রাজি করানোর দশটি উপায়’ জাতীয় বই কিনে ফেলুন। আর তাতে লেখা উপায়গুলো দিয়ে চেষ্টা করুন আপনার রিকশাওয়ালাকে রাজি করাতে। এতে কাজ না হলে অন্তত রিকশার অভাবে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে এটি পড়ে সময় কাটাতে পারেন।

৭# সকল সমস্যার সমাধানে তাবিজ দিতে পারে, মার্কেটে এমন প্রচুর বাবা-পীর ইত্যাদি মানুষজন আছেন। আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী অন ডিমান্ড তাবিজ বানায়ে দিতে পারবে, এমন লোকজনও আছে, তাদের কারো কাছ থেকে ‘রিকশাওয়ালাকে পছন্দসই গন্তব্যে যেতে রাজি করানোর তাবিজ’ নিতে পারেন। তাবিজ যদি কাজ নাও করে, একের পর এক রিকশাওয়ালার কাছ থেকে ‘না’ শোনার মানসিক শক্তিটা নিশ্চয়ই পেয়ে যাবেন!

৮# রিকশা ঠিক করতে যাওয়ার সময় সাথে চিত্র ও ভিডিওগ্রাহকদের রাখতে পারেন। এরপর রিকশাওয়ালাকে বলবেন, ‘ভাই আমরা টিভি চ্যানেল থেকে আসছি। আপনার রিকশা চালানোর একটা ভিডিও করতে চাই। দেখি তো ভাই, একটু রিকশা চালায়ে দেখান… একটু সুন্দর রাস্তাঘাটের দিকে যান… (মিরপুরবাসীরা বলবেন, জ্যামের দিকে যান, আমরা জ্যামের সময় রিকশা দাঁড়িয়ে থাকার ভিডিও করছি!)

৯# এটি একটি রাবীন্দ্রিক পদ্ধতি, তবে একটু সময়সাপেক্ষ, য়েক মাসও সময় লাগতে পারে। রিকশাওয়ালার কাছে রবীন্দ্রনাথের বই নিয়ে যান। তাকে রবীন্দ্রনাথের গান বাজিয়ে শোনান। রবি ঠাকুরের বৃষ্টিসাহিত্যের সাথে তার পরিচয় করিয়ে দিন। তাকে বলুন, ‘আজি ঝরো ঝরো বাদল দিনে, হে রিকশাসঞ্চালক, তুমি কি যাইবে আমার নীড়ে?’ দেখবেন আপনার কথা ফেলতেই পারবে না।

১০# কোনো পদ্ধতিই কাজ না করলে চুপচাপ গিয়ে রিকশার উপর উঠে বসে থাকুন। রিকশাওয়ালা ঘাবড়ে গেলে বলবেন, মামা, আপনি না যাওয়া পর্যন্ত আমি রিকশায় উঠে বসে থাকব। (এটা মূলত বাঙালি সিনেমাটিক প্রেমিক পদ্ধতি) মামা যদি অলরেডি রিকশার হুড তুলে সিটের উপর বসে থাকে সেক্ষেত্রে বলবেন, ‘মামা, আপনে বইসা থাকেন, আমার যেইখানে যাওয়ার আমি চালায় নিয়া যাইতেছি।’ তবে এই প্রক্রিয়া মারামারি, টানাহেচড়া এসব পর্যন্ত চলে গেলে সেই দায় কোনোভাবেই eআরকির নয়।

কমেন্টসমুহ
সিক্রেট ডাইরি সিক্রেট ডাইরি

Top